“এক মাঘে শীত যায় না” বলেছিলেন নিরঞ্জন, কথার খেলাপ করেননি! জিতুর দেওয়া ‘সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড়’-এর তকমার জবাব দিতে গিয়ে একের পর এক বাজিমাত, রনিতাকেও বানালেন হিরো! ‘নিরঞ্জন প্রচুর চালাক, ওর চালাকি অনেকেই ধরতেই পারেনি’ মন্তব্য বিগ বস দর্শকদের! আপনারও কি একমত?

বিগ বস বাংলার ঘরে নিরঞ্জন মণ্ডলকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত দু’দিনের একাধিক ঘটনা নিয়ে একাংশ দর্শকের দাবি, নিরঞ্জন নাকি অনেক আগে থেকেই নিজের চাল সাজিয়ে রেখেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, সেই চালের আসল উদ্দেশ্য অনেকেই প্রথমে বুঝতে পারেননি। এক দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় দাবি করা হয়েছে, সকলের নজর ছিল অন্য একটি বিষয়েই। রনিতা দাস কী ভাবে বিনা কোনও কাজেই ‘হিরো জুম’ হলেন, সেটাই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। কিন্তু ওই দর্শকের মতে, এই ঘটনার পিছনে নিরঞ্জনের পুরনো কথার যোগ রয়েছে। কারণ জিতু কমলকে উদ্দেশ্য করে এক দিন নিরঞ্জন বলেছিলেন, ‘সময় আমারও আসবে, এক মাঘে শীত যায় না।’ এখন পরপর কয়েকটি ঘটনায় সেই কথাটিই যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে তাঁর খেলা। দর্শকের ওই প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী, নিরঞ্জন নিজের কথার প্রমাণ ধাপে ধাপে দিতে শুরু করেছেন।

এর আগে জিতুকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনায় নিরঞ্জন এবং রনিতাকে ‘সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড়’-এর তকমা দেওয়া হয়েছিল। দর্শকের ওই বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, সেদিন জিতুর সমস্ত নির্দেশই নিরঞ্জন এবং রনিতা মেনে চলেছিলেন। তার পরেও তাঁদের এমন তকমা দেওয়া হওয়ায় নিরঞ্জন যথেষ্ট হতাশ হয়েছিলেন। শুধু হতাশাই নয়, বিষয়টি তাঁকে খুব আঘাত করেছিল বলেও ওই দর্শকের দাবি। সেই সময় নিরঞ্জন জানিয়েছিলেন, এক দিন তিনিও সঞ্চালকের জায়গায় থাকবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দর্শকের চোখে সেই কথাটিও নতুন অর্থ পেয়েছে। কারণ এর পরেই নিরঞ্জনকে সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। শুধু এক বার নয়, গত দু’দিনে দু’বার সঞ্চালকের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি বলে দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে। ফলে আগের সেই মন্তব্যকে এখন অনেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।

নিরঞ্জনের খেলার আরও একটি দিক নিয়েও এই দর্শকের বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে। জিতু যখন নিরঞ্জন এবং রনিতা দু’জনকেই ‘সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড়’ বলেছিলেন, তখনই নাকি নিরঞ্জন মনে মনে জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার পর রনিতাকে ‘হিরো জুম’ বানানোর ঘটনাকেও সেই প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে জুড়ে দেখা হচ্ছে। ওই দর্শকের দাবি, রনিতা নিজের কোনও বিশেষ কাজ না করেও কী ভাবে সেই তকমা পেলেন, সেটাই আসলে মূল প্রশ্ন নয়। বরং এর মাধ্যমে নিরঞ্জন জিতুকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন বলেই তাঁর ধারণা। অর্থাৎ নিজের জন্য কোনও পুরস্কার পাওয়ার চেয়ে অন্য একজনকে সামনে এনে জবাব দেওয়াটাই নাকি ছিল নিরঞ্জনের উদ্দেশ্য। এই ব্যাখ্যা অবশ্য সম্পূর্ণটাই দর্শকের ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ। অনুষ্ঠানের তরফে নিরঞ্জন নিজে এমন কোনও উদ্দেশ্যের কথা জানিয়েছেন কি না, তা আলাদা বিষয়। তবে এই ব্যাখ্যা ঘিরেই এখন সামাজিক মাধ্যমে নিরঞ্জনের খেলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহও এই আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে নিরঞ্জন ফের বিগ বসের ঘরের অধিনায়ক হয়েছেন। এটি তাঁর দ্বিতীয়বার অধিনায়ক হওয়া, যা এই মরসুমে প্রথমবার কোনও প্রতিযোগীর ক্ষেত্রে ঘটেছে। অধিনায়ক হওয়ার লড়াইয়ে তিনি প্রথমে সৃজলার মুখোমুখি হন এবং তিন দফার খেলায় জয় পান। এর পরে সৌরভ দাসের সঙ্গে চূড়ান্ত লড়াইয়ে নেমেও জয় ছিনিয়ে নেন নিরঞ্জন। এর আগে অন্য এক অধিনায়কত্বের লড়াইয়েও নিরঞ্জনের নাম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ফলে অধিনায়কত্ব, সঞ্চালকের দায়িত্ব এবং বিভিন্ন কাজের মধ্যে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি এখন চোখে পড়ছে। এই কারণেই ওই দর্শকের দাবি, যাঁদের এক দিন ‘সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড়’ বলা হয়েছিল, তাঁরাই এখন নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে দেখাচ্ছেন। রনিতার ‘হিরো জুম’ হওয়াকেও তাই নিরঞ্জনের সেই পাল্টা জবাবের অংশ হিসেবেই দেখছেন তিনি।

সব মিলিয়ে নিরঞ্জনের খেলা নিয়ে বিগ বস বাংলার দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। একাংশের চোখে তিনি শুধু আবেগ দিয়ে খেলছেন না, বরং সময় বুঝে নিজের চাল দিচ্ছেন। বিশেষ করে জিতুকে বলা তাঁর সেই পুরনো কথা এখন আবার সামনে চলে এসেছে। ‘সময় আমারও আসবে, এক মাঘে শীত যায় না’, এই মন্তব্যের সঙ্গে বর্তমান ঘটনাগুলির মিল খুঁজে পাচ্ছেন ওই দর্শক। তাঁর যুক্তি, আগে যে জায়গায় নিরঞ্জন এবং রনিতাকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এখন সেখান থেকেই তাঁরা নিজেদের প্রভাব দেখাচ্ছেন। নিরঞ্জন দু’বার সঞ্চালকের দায়িত্ব পেয়েছেন, অধিনায়ক হয়েছেন এবং রনিতাও পেয়েছেন ‘হিরো জুম’-এর তকমা। তাই ওই দর্শকের চোখে গত দু’দিনের ঘটনাই জিতুর উদ্দেশে নিরঞ্জনের জবাব। অন্য দর্শকরা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে কতটা একমত, সেটাই এখন দেখার। তবে নিরঞ্জনের খেলার এই নতুন ব্যাখ্যা যে বিগ বস বাংলার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page