জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“বাইরের চাকচিক্য শুধু টোপ, চটক দেখে বিভ্রান্ত হয় অনেকেই” “ভুল পথে নিয়ে যাওয়া সঙ্গীর থেকে, নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে হবে”, চাঁচাছোলা মন্তব্যে পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়! পরোক্ষ বার্তা কী কাঞ্চন-শ্রীময়ীর উদ্দেশ্যে?

বাংলা বিনোদন জগতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হিসেবে স্বতন্ত্র স্থান করে নিয়েছেন অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায় (Pinky Banerjee)। বিগত সময়ে ব্যক্তিগত জীবনের ওঠা-নামা এবং প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরও তিনি নিজের পথ নিজে খুঁজে নিয়েছেন। সন্তানের দায়িত্ব পালন করা, নিজের জন্য সুযোগ তৈরি করা, সবকিছুতেই তিনি দেখিয়েছেন যে ব্যর্থতা কিংবা অসহায়তা কখনও শেষ কথা নয়! তাঁর জীবন দর্শন স্পষ্ট যে বাঁচার জন্য একমাত্র নিজেকেই প্রয়োজন। নিজেই নিজের পাশে না দাঁড়াতে পারলে, বাঁচা সত্যিই কঠিন।

প্রসঙ্গত, অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের (Kanchan Mullick) সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হওয়ার পর পিঙ্কি একা সন্তান ওশের সঙ্গে জীবনকে নতুনভাবে সাজিয়েছেন। অন্যদিকে, সেই সময়ে কাঞ্চনের জীবনে শ্রীময়ী চট্টরাজ (Sreemoyee Chattoraj) এবং তাদের কন্যা কৃষভির আগমন ঘটে। এক দীর্ঘ সময়ের দাম্পত্য ভেঙে সহজেই নতুন করে সংসার গড়ে তোলেন তিনি। এমনকি পিঙ্কির সঙ্গে বিবাহকে ভুল সিদ্ধান্ত উল্লেখ্য করে, কাঞ্চন শ্রীময়ীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বারবার। কিন্তু পিঙ্কি দেখিয়েছেন, জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে থাকলে কোনও ভুল সিদ্ধান্ত আর জীবনকে অচল করে দিতে পারে না।

পিঙ্কির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, কখনও তিনি সরাসরি কোনও সমালোচনা করেননি, তবু শ্রীময়ীর পরোক্ষ মন্তব্য একটা সময়ে তাঁকে আঘাত করেছিল। শ্রীময়ী একবার পরোক্ষভাবে বলেছিলেন, হয়তো কাঞ্চনের ভালো লাগার কারণই তিনি দেখতে সুন্দর আর সঙ্গী যদি দেখতে ভালো না লাগে, তাহলে সংসার চালিয়ে যাওয়ায় অনীহা জন্মায়। এই অভিজ্ঞতা পিঙ্কিকে আরও স্পষ্টভাবে বুঝিয়েছে যে, বাইরের চটক বা সাজ-গোছানো চেহারা মানুষকে ভুল পথ দেখাতে পারে। যে মানুষ বাইরের চকচকে চোখে বিভ্রান্ত হয়, তার জীবন ‘রং রুট’-এ চলে যেতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটেই পিঙ্কি নতুন ধারাবাহিক ‘ভালোবাসার রং রুট’এ অভিনয় করছেন। ধারাবাহিকের গল্প এবং নামই যেন বর্তমান সময়ের মানুষের জীবনের সঙ্গে মিল খায়। এদিন এক পিঙ্কি বলেন, “আজকাল বেশিরভাগ মানুষই বাইরের চাকচিক্য দেখে বিভ্রান্ত হয়, যা আসলে একটা টোপ। এই চটকই মানুষকে জীবনের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে!” এখানে যেন তিনি সাবধান হওয়ার বার্তা দিয়েছেন , একই সঙ্গে অতীতের সম্পর্কের ভুল পথ এবং বর্তমানের স্থিরতার মধ্যে সূক্ষ্ম সমন্বয়ও তুলে ধরেছেন।

উল্লেখ্য, পর্দার বাইরে নিজস্ব জগত এবং ধারাবাহিকের কাজ দুটোই পিঙ্কির জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইউটিউব চ্যানেল ‘আনবাক-শো’ থেকে শুরু করে টুডেস স্টোরি নামের সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি নির্মাতাদের সহায়তা করছেন। এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পিঙ্কি নিজের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, বিশেষ করে যারা জীবনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রতিটি নতুন প্রজেক্টে নিজের চিন্তা এবং নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা মানসিকতার ছাপ স্পষ্ট।

এক কথায় বলা যায়, পিঙ্কির গল্প মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার এক নিরবিসৃত উৎস। প্রাক্তন স্বামী কাঞ্চন এবং তাঁর নতুন পরিবারকে তিনি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কিছু বোঝাচ্ছেন না, তবে নিজের গল্পের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন যে নিজের শক্তি ও আত্মবিশ্বাস থাকলেই মানুষ ঠিক পথে চলতে পারে। এই বার্তা আর ধারাবাহিকের গল্প মিলিয়ে তাঁর কর্মজীবন এখন নতুন প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশক হয়ে উঠেছে, এবং অনুপ্রেরণাও জোগাচ্ছেন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page