জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

ভোট প্রচারে তারকাদের অঙ্ক, রেট চার্ট ফাঁস! শো বা সেবা, জানেন কত টাকা নেন টলিউড অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা?

বাংলার নির্বাচনী প্রচারে একধিক তারকাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারে তারা যেভাবে অংশ নিয়েছেন, তাতে তাদের জনপ্রিয়তার চিত্র আরো স্পষ্ট হয়েছে। বাংলার রাস্তায় রাস্তায় তাদের হাত নেড়ে বা হেলিকপ্টারে উড়ে বেড়ানোর ছবি দেখে সাধারণ মানুষ মনে করেছে, তারা হয়তো জনগণের সেবায় লিপ্ত। তবে এসব কর্মকাণ্ড আদৌ নিঃস্বার্থ নয়, বরং এসব র‍্যালি বা প্রচার হতে পারে এক ধরনের ‘শো’—এমন দাবি করেছেন পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র। তিনি সম্প্রতি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রকাশ করেছেন, যে সমস্ত তারকারা ভোট প্রচারে অংশ নিচ্ছেন, তারা একেকটি র‍্যালির জন্য ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন। এমনকি পুরো টাকা নগদে নেওয়া হয়, আর তারা বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে পুরো টাকা নিশ্চিত করতে চান।

এমনকি শুভ্রজিৎ মিত্র আরও জানিয়েছেন, এই তারকারা কোনো রাজনৈতিক আদর্শের সাথে যুক্ত নয়। তাদের কাছে মূল বিষয় হলো অর্থ। তিনি বলেন, তাদের প্রচার কার্যক্রমের উদ্দেশ্য একটাই—টাকা উপার্জন। এইসব তারকারা মঞ্চে ওঠার পর একরকম ‘মাচা’ হিসেবে কার্যক্রম করেন, যেখানে জনগণের মধ্যে উন্মাদনা সৃষ্টি করতে হয়। শিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, ‘যারা র‍্যালিতে মিছিলে অংশ নেন, তারা কি সত্যি জনগণের সাথে সংযুক্ত?’—সেই প্রশ্নের মধ্যে গলায় ফাঁকা পড়ে গেল র‍্যালি এবং প্রচারের আসল উদ্দেশ্য। শুভ্রজিৎ মিত্রের মতে, এইসব তারকারা চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় যেমন তেমন, রাজনীতির জগতে আসলেও একই রকম।

তবে শুধু র‍্যালি বা প্রচারের তারকারাই নন, একাধিক দলীয় এমপি বা এমএলএরাও এই অর্থের লেনদেনে যুক্ত। শুভ্রজিৎ মিত্রের দাবি, তারা ২ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্যাশে বা ইন-কাইন্ড লেনদেন করেন। এছাড়া প্রচারের জন্য যে সব খরচ আসে, তা সাধারণ মানুষ ভাবতে পারবেন না। হেলিকপ্টার ভাড়া, গাইডলাইন অনুযায়ী গ্রাউন্ড লেভেল কর্মীদের খাওয়ার খরচ, প্রচারে উপস্থিত লোকজনের পেমেন্ট—এই সব খরচের হিসাব চরম সঙ্কুল। রাজনীতির মঞ্চে এই ধরনের খরচ এবং লেনদেন ঘটছে, যেখানে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং বিচার বিভাগীয় স্তরে এসব বিষয়ে কড়া নজরদারি চলছে এবং খুব শিগগিরই এই লেনদেনের ফলাফল সামনে আসবে।

সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের সেই পোস্টে মজার কথা হল, তিনি এমন তারকাদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যারা একদিকে সিনেমায় ফ্লপ, অন্যদিকে ভোট প্রচারে সেলিব্রিটি হিসেবে ওঠে আসছেন। তাঁদের প্রতি জনতার আকর্ষণ নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার কথায়, এই তারকারা আসলে জনবিচ্ছিন্ন, এবং তাদের চলচ্চিত্র জগতেও কম জনপ্রিয়তা রয়েছে। অথচ রাজনীতির মঞ্চে তাঁদের প্রচারে উপস্থিতি দেখে একদম আলাদা উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। এর পেছনে কী আসল কারণ, সে বিষয়ে তিনি আরও গভীরভাবে আলোচনা করেছেন।

এবারের নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল এবং বিজেপির প্রচারেও তারকারা কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। তৃণমূলের দিকে থেকে যেমন দেব, সৌমিতৃষা, বনি, কৌশানি, শ্রাবন্তী প্রচারে অংশ নিয়েছেন, তেমনি বিজেপির প্রচারে ও নানা তারকা মুখ ছিল। তবে সবার প্রচারের জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা আলোচনার বাইরে নয়। এই প্রচার কার্যক্রমগুলি যেমন রাজনৈতিক দলের জন্য জরুরি, তেমনি এটি একটি ব্যবসায়িক ব্যাপারও হয়ে উঠেছে। তাই, আগামী কয়েক মাসে যদি এই আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়, তবে তা রাজনীতির মঞ্চে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page