জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আমরা সবাই রিপ্লেসেবল”, “জীবন গেলেই ঘাড় থেকে নামিয়ে ফেলে” রাহুলের মৃ’ত্যুর পর টলিউডে প্রশ্নের ঝড়, কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

টলিউডে শোকের আবহ আরও গভীর হয়েছে প্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যুর পর। তাঁর চলে যাওয়া শুধু একটি বড় ক্ষতি নয়, বরং অনেক অজানা প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। এই ঘটনার পর টালিগঞ্জের শিল্পীমহলের একাংশ পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে প্রযোজনা সংস্থা ও চ্যানেলের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই রাহুলের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছেন। এই মৃত্যু যেন ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের এক কঠিন বাস্তব সামনে এনে দিয়েছে। ফলে টলিউডের কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, গ্ল্যামারের আড়ালে থাকা বাস্তব কতটা কঠিন। তিনি সরাসরি বলেছেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ অপরিহার্য নয়। একজন শিল্পী কাজ করতে করতেই যদি মারা যান, তবুও খুব দ্রুত তাঁকে ভুলে যাওয়া হয়। এই মানসিকতা তাঁকে নাড়া দিয়েছে। তাঁর পোস্টে হতাশা ও ক্ষোভ দুটোই ফুটে উঠেছে। সেই সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির প্রতি এক ধরনের অনাস্থাও প্রকাশ পেয়েছে।

স্বস্তিকার কথায়, টলিউডের ঝলমলে দুনিয়া আসলে অনেকটাই ফাঁপা। তিনি মনে করেন, বাইরে থেকে যেটা খুব বড় এবং আকর্ষণীয় মনে হয়, ভেতরে তা ততটা নয়। নিজের অবস্থান নিয়েও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন তিনি। তাঁর মতে, স্টারডম নিয়ে অহংকার করার কোনও মানে নেই। জীবন খুব অনিশ্চিত, তাই এই বাহ্যিক জৌলুসকে তিনি আর গুরুত্ব দিতে চান না। এই উপলব্ধি তাঁকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে। তিনি নিজের জীবনকে আরও সাধারণভাবে দেখতে চাইছেন।

নিজের পোস্টে স্বস্তিকা আরও জানান, প্রয়োজনে তিনি সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করতে প্রস্তুত। বড় গাড়ি বা বিলাসিতার সঙ্গে ভালো অভিনয়ের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই তিনি মনে করেন। বাস, ট্রাম বা রিকশায় চলাচল করলেও একজন শিল্পীর কাজের মান কমে যায় না। এই ধারণা তিনি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, বাস্তবকে মেনে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। জীবন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখা দরকার। এই বক্তব্য অনেকের মধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাহুলের মৃত্যু যেন টলিউডের ভেতরের বহু চাপা ক্ষোভকে সামনে এনে দিয়েছে। কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং শিল্পীদের মর্যাদা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। স্বস্তিকার এই খোলামেলা বক্তব্য ইন্ডাস্ট্রির বড় অংশকে নাড়া দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার পর সত্যিই কোনও পরিবর্তন আসে কি না। তদন্ত ও আলোচনার মধ্যেই ধীরে ধীরে পরিষ্কার হবে অনেক কিছু। তবে এই ঘটনা যে দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে, তা বলাই যায়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page