থাইল্যান্ডে ছুটি কাটানোর ছবি পোস্ট করে আবারও সমালোচনার মুখে পড়লেন পরিচালক ও রাজনীতিবিদ রাজ চক্রবর্তী। স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সমুদ্র সৈকতের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় আলোচনা। ছবিতে দুজনকেই কালো পোশাকে দেখা গেলেও রাজের পায়ের সাদা চটি নিয়ে নজর কাড়ে নেটিজেনদের একাংশ। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানা ধরনের কটাক্ষ ও ব্যঙ্গ। অনেকেই কমেন্টে পুরনো বিতর্ক টেনে এনে নতুন করে ট্রোল শুরু করেন। ছবিগুলো দম্পতির ব্যক্তিগত মুহূর্ত হলেও তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ফলে ছুটির আনন্দের মুহূর্তও বিতর্কে ঢেকে যায়।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর পর থেকেই রাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর কাছে পরাজিত হন। ভোট গণনার দিন কেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় তাঁকে উদ্দেশ্য করে “চোর” স্লোগান দেওয়া হয়। এছাড়াও তাঁর দিকে কাদা ছোড়ার ঘটনাও সামনে আসে বলে জানা যায়। এই ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার প্রভাব এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচনের পর স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় একটি আবেগপূর্ণ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি রাজকে তাঁর জীবনের “সুপারহিরো” বলে উল্লেখ করেন। এরপর দম্পতি তাঁদের ৮ বছরের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে থাইল্যান্ডে যান। ছুটি কাটানোর একাধিক ছবি শুভশ্রী নিজেই সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। সমুদ্র সৈকতে তাঁদের একসঙ্গে সময় কাটানোর দৃশ্যও দেখা যায় ছবিতে। অনেক ভক্ত এই ছবিগুলো পছন্দ করলেও সমালোচনাও কম হয়নি। সব মিলিয়ে তাঁদের এই ট্রিপ নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
ছবিগুলো প্রকাশের পর থেকেই নেটিজেনদের একাংশ কটাক্ষ শুরু করে। কেউ লেখেন “সেই সাদা চটি” নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য। আবার কেউ লেখেন “কাদা কাদা ব্যাপার আছে” বলে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা। অনেকে রাজকে “কাদাখেকো” বলেও ব্যঙ্গ করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ তাঁকে “কাদা ম্যান” নামেও কটাক্ষ করেন বলে দেখা যায়। পুরনো রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আবারও সমালোচনা বাড়ে। ফলে ব্যক্তিগত ছবি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।
আরও পড়ুনঃ হঠাৎই অসুস্থ হয় হাসপাতালে ভর্তি জোজো পুত্র ছোট্ট আদি! ছেলের অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন গায়িকা, কি হয়েছে তার ছেলের?
নির্বাচনের পর রাজ চক্রবর্তী নিজেই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন না। পরিচালক হিসেবে নিজের পুরনো পেশায় ফিরে যেতে চান বলেও জানান তিনি। রাজনীতির বদলে আবার সিনেমা পরিচালনায় মন দিতে চান তিনি। এছাড়াও তিনি অতীতে একটি পোস্টে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি মানুষের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করেন। এখন তিনি মূলত বিনোদন জগতেই ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনায় রয়েছেন।
