বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত’ (Rituparna Sengupta)। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। বাণিজ্যিক ছবি থেকে সমান্তরাল সিনেমা, বাংলা ছাড়িয়ে হিন্দি ও ওড়িয়া চলচ্চিত্রেও সমান স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘ এই পথচলায় অসংখ্য সাফল্য, পুরস্কার এবং দর্শকের ভালোবাসা যেমন পেয়েছেন, তেমনই এমন কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখিও হয়েছেন, যা আজও তাঁর মনে গভীর দাগ কেটে রয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অপ্রকাশিত কষ্টের কথাই প্রথমবার খুলে বললেন অভিনেত্রী।
ঋতুপর্ণাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, জীবনের এমন কোনও অপমান আছে কি, যা তিনি আজও ভুলতে পারেননি। উত্তরে অভিনেত্রী জানান, এমন ঘটনার সংখ্যা কম নয়। তবে একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা তাঁর মনে আজও সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবির নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য তাঁকে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। চরিত্রটি নিয়ে নির্মাতাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়, কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন, তা নিয়েও পরিকল্পনা শুরু করেন তিনি। সেই চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নিজের জীবনযাপনেও বদল আনেন এবং পুরো মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
কিন্তু সবকিছু বদলে যায় একদিনেই। ঋতুপর্ণার কথায়, কোনও ফোন, কোনও বার্তা বা সরাসরি আলোচনা নয়, বরং এক সকালে খবরের কাগজ খুলেই তিনি জানতে পারেন, সেই ছবিতে তাঁর বদলে অন্য এক অভিনেত্রীকে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি শুধু বিস্মিতই হননি, ভীষণভাবে অপমানিতও হয়েছিলেন। তাঁর মতে, কোনও শিল্পীকে বাদ দেওয়া হতেই পারে, কিন্তু অন্তত তাঁকে জানানোটা সৌজন্যের অংশ। সেই ন্যূনতম সম্মানটুকুও তিনি পাননি বলেই এই ঘটনাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অপমান বলে মনে করেন।
অভিনেত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, দীর্ঘ অভিনয় জীবনে শুধু জনপ্রিয়তা নয়, অনেক কঠিন বাস্তবতারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবে সেই ধাক্কা তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে আরও নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন তিনি। নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে বারবার প্রমাণ করেছেন, একজন অভিনেতার আসল পরিচয় তাঁর কাজেই। নিজেকে বারবার বদলে নেওয়ার মানসিকতা এবং চরিত্রকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দর্শনই তাঁকে এত বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে।
আরও পড়ুনঃ রথযাত্রায় দারুণ ধামাকা! রকস্টারের পর এবার ডাক্তার কাকু রূপে প্রসেনজিৎ! মানবসেবার শপথ নিয়ে কবে আসছেন পর্দায়?
সাক্ষাৎকারে অতীতের এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়েও কোথাও কোনও ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করেননি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। বরং তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, জীবনের প্রতিটি আঘাতই তাঁকে আরও শক্ত হতে শিখিয়েছে। আজও নতুন চরিত্র নিয়ে সমান উৎসাহে কাজ করে চলেছেন তিনি। দর্শকদের মতে, এত দীর্ঘ সময় ধরে নিজের অভিনয় দক্ষতা, পরিশ্রম এবং পেশাদার মানসিকতা দিয়ে যে জায়গা তিনি তৈরি করেছেন, তা কোনও একটি হারানো চরিত্র দিয়ে বিচার করা যায় না। বরং সেই অপমানই হয়তো তাঁর লড়াইকে আরও দৃঢ় করেছে এবং একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁকে আরও পরিণত করে তুলেছে।
