টলিপাড়ার পরিচিত মুখ, তারপর রাজনীতির ময়দানে নতুন অধ্যায়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক পরিচয়ে যে বদল এসেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় যাওয়া, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা এবং শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যোগ কোয়েলের এই যাত্রাপথ নিয়ে যেমন রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়াতেও নানা মত উঠে আসছে। এর মধ্যেই কোয়েলের বিজেপিতে যোগদানের পর তাঁকে নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। আর তাঁর মন্তব্যেই যেন উঠে এল অন্য এক ব্যাখ্যা।
সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দেন কোয়েল মল্লিক। শুধু দলবদল নয়, নিজের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনের জন্য বিজেপির প্রার্থী হিসেবেও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি। এর আগে তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন কোয়েল। মার্চে নির্বাচিত হওয়ার পর ৬ এপ্রিল সাংসদ হিসেবে শপথ নেন তিনি। কিন্তু সেই রাজনৈতিক অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৬ জুলাই রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন অভিনেত্রী। এরপর থেকেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিজেপির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। অবশেষে সেই জল্পনারই অবসান ঘটল বিজেপিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে।
কোয়েলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মন্তব্য সামনে এসেছে। কেউ তাঁকে ‘দলবদলু’ বলে কটাক্ষ করেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এত অল্প সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের কারণ নিয়েও। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোয়েল এবং তাঁর বাবা অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককে নিয়েও নানা মিম ছড়িয়েছে। যদিও এসব নেতিবাচক মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ কোয়েল। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অভিনেত্রী জানিয়েছেন, মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে পুরনো দল সম্পর্কে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য করতেও তিনি রাজি নন।
এই পরিস্থিতিতেই কোয়েলের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেল রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে। অভিনেত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক কোয়েলের সিদ্ধান্তে প্রকাশ্যেই নিজের খুশির কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কোয়েল খুব শিক্ষিত এবং ভালো পরিবারে বড় হয়ে উঠেছেন। তাঁর প্রতিপালনের প্রশংসা করে রূপার দাবি, মানুষের জন্য কোয়েল ‘দারুণ’ কাজ করবেন। শুধু তাই নয়, কোয়েলকে প্রাক্তন তৃণমূলী বলতেও নারাজ রূপা। তাঁর ব্যাখ্যা, কোয়েলকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল এবং তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল। অর্থাৎ রূপার বক্তব্যে কোয়েলের আগের রাজনৈতিক পরিচয়কে দেখার ক্ষেত্রে খানিকটা অন্য সুরই ধরা পড়েছে।
এরপরই আসে রূপার সবচেয়ে চর্চিত মন্তব্য। কোয়েল আদতে হয়তো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি সমর্থন বা পছন্দ পোষণ করতেন, কিন্তু এতদিন তা প্রকাশ্যে বলতে পারেননি এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, অনেকেই প্রধানমন্ত্রীকে পছন্দ করেন এবং হয়তো কোয়েলও করতেন, শুধু মুখ ফুটে বলতে পারছিলেন না। এখন সেই মানুষরাই প্রকাশ্যে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জানাচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি।
কোয়েলের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে বিজেপির অন্দরেও অবশ্য আলোচনা কম হয়নি। দলেরই একাংশের মধ্যে ‘বিজেপির তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এর আগেও তৃণমূলের কয়েকজন রাজ্যসভা সাংসদ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং পরে গেরুয়া শিবিরের টিকিটে ফের রাজ্যসভায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই রূপা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘তৃণমূলীকরণ’ কথাটা কেন বলা হচ্ছে? তাঁর বক্তব্য, কেউ জোর করে বিজেপিতে আসছেন না, বরং নিজেদের ইচ্ছেতেই আসছেন।
আরও পড়ুনঃ সম্রাটের মানসিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের বড় পরামর্শ! হঠাৎ শ্রীনিবাসকে খুঁজতে বাড়িতে হাজির সহকর্মীরা! ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের পর্বে কোন বিপদের ইঙ্গিত?
সব মিলিয়ে কোয়েলের বিজেপিতে যোগদান শুধু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায় নয়, টলিপাড়ার তারকাদের রাজনীতিতে ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তৃণমূল থেকে বিজেপি এই অল্প সময়ের রাজনৈতিক সফর নিয়ে যতই বিতর্ক থাকুক, আপাতত কোয়েলের বার্তা স্পষ্ট, মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি। আর তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য সেই বিতর্কে যে আরও নতুন মাত্রা যোগ করল, তা বলাই যায়।
