দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকলে মানুষের স্বভাব, কথা বলার ভঙ্গি এমনকি চেহারাতেও নাকি মিল এসে যায়, এই কথাটা আমরা সবাই কমবেশি শুনেছি। কিন্তু সেই মিল যদি এতটাই চোখে পড়ে যে বাইরের লোকজন ভুল করতে শুরু করেন? তখন বিষয়টা আর নিছক কাকতাল নয়, রীতিমতো মজারও বটে! সম্প্রতি এমনই এক অভিজ্ঞতা হাসি-ঠাট্টার ছলে ভাগ করে নিয়েছেন গায়ক ‘রূপঙ্কর বাগচী’র (Rupankar Bagchi) স্ত্রী চৈতালী লাহিড়ী (Chaitali Lahiri)। সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি জানান, একজন তাঁকে দেখে মন্তব্য করেছেন, ‘একেবারে রূপঙ্করের মতো!’
এই কথাই চৈতালীর মনে উষ্কে দিয়েছে বাঙালির সেই পুরনো রসিকতা, যেখানে বলা হয় যে স্বামী-স্ত্রী নাকি সুখী দাম্পত্য জীবনের এক পর্যায়ে ভাই-বোন হয়ে যায়! চৈতালী নিজেই মজা করে প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি প্রায় তিন দশকের দাম্পত্যের পর তাঁদের ক্ষেত্রেও সেই তত্ত্ব খাটছে? ২৭ বছরের সংসার, ওঠানামা, লড়াই আর ভালোবাসার মাঝখানে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্ন যে নিছক ঠাট্টা, তা বুঝতে কারও অসুবিধে হয়নি। পোস্টের পর থেকেই মন্তব্যে ভরে উঠেছে সমাজ মাধ্যম। কেউ বলছেন, চেহারার মিল মানেই তাঁরা একে অপরের জন্য তৈরি!
কেউ আবার রসিকতা করে লিখছেন, রূপঙ্করের মতো চশমা পরে নিলেই নাকি ঘুচে যাবে শেষ তফাৎ! শুধু অনুরাগীরাই নন, পরিচিতদের থেকেও এসেছে নানান প্রতিক্রিয়া। জয়তী চক্রবর্তী লিখেছেন, চৈতালী কারও মতো নন, তিনি নিজেই নিজের মতো। আর রূপঙ্কর নিজে? তিনি এক লাইনের অসম্পূর্ণ মন্তব্য রেখেছেন, “এটা জাস্ট…”, বাকিটা যেন পাঠকের কল্পনার উপর ছেড়ে দিয়েছেন। এই মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট, দীর্ঘ দাম্পত্যেও তাঁদের সম্পর্কের প্রাণশক্তি এখনও অটুট।
তবে, এই হাসি-ঠাট্টার আড়ালে রয়েছে এক দীর্ঘ ও দৃঢ় সহযাত্রার গল্প। রূপঙ্করের জীবনের শুরুর দিকের সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি ধাপে চৈতালী ছিলেন তাঁর পাশে। নান্দিপঠ দলে নাটক করতে গিয়েই দু’জনের পরিচয়, সেখান থেকেই বন্ধুত্ব আর পরে প্রেম। সামাজিক জটিলতা এড়াতে একসময় কিছুটা লুকিয়েই বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। চৈতালীর বাড়িতে অনেকেই জানতেন, রূপঙ্কর নাকি রেলের চাকরি করেন। এই ছোট ছোট ত্যাগ আর বোঝাপড়াই ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে তাঁদের সংসার।
আরও পড়ুনঃ “৪০ বছর পরেও, বাবাকে বিয়ে করতে চান রাশিয়ার নারীরা!” রাশিয়ায় আজও অমলিন মিঠুন চক্রবর্তী ম্যাজিক! পুত্র নমোশির মুখে শোনা গেল কোন অবাক করা অভিজ্ঞতা?
এই সম্পর্কের আরও একটি গভীর অধ্যায় তাঁদের কন্যা মহুল। দত্তক নেওয়া হলেও চৈতালীর কথায়, মহুল তাঁর হৃদয় থেকেই জন্মেছে। রূপঙ্করের কেরিয়ারের চড়াই-উতরাই, বিতর্ক ও চাপের মধ্যেই চৈতালী ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। তাই স্বামী-স্ত্রীর চেহারা এক হয়ে যাওয়া নিয়ে বিজ্ঞান কী বলে, তা আলাদা বিষয়। কিন্তু নিজেদের নিয়ে এই স্বচ্ছন্দ হাসি আর পরস্পরকে খুনসুটি করার ক্ষমতাই প্রমাণ করে দেয়, এত বছর পরেও রূপঙ্কর-চৈতালীর সম্পর্ক আজও টাটকা, স্বাভাবিক এবং গভীরভাবে মানবিক।
