বিনোদন জগতের তারকাদের জীবনকে বাইরে থেকে যতটা চকচকে মনে হয়, বাস্তবে তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে নানা মজার, বিব্রতকর কিংবা ভয়ের অভিজ্ঞতা। অনেক সময় শিল্পীরা নিজেরাই সেইসব পুরনো স্মৃতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। তখনই দর্শকের সামনে উঠে আসে এমন কিছু অজানা গল্প, যা শুনে কখনও হাসি পায়, আবার কখনও অবাক হতে হয়। সম্প্রতি ঠিক এমনই একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী রূপসা চক্রবর্তী। তার একটি ভিডিও ঘিরেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে রূপসা চক্রবর্তী পরিচিত মুখ। বিভিন্ন ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। তবে অনেকেই জানেন না, তার বাবাও অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত। রূপসা নিজের ভিডিওতে জানিয়েছেন, তার বাবা সাগ্নিক চ্যাটার্জী দীর্ঘদিন সরকারি চাকরি করেছেন। চাকরির পাশাপাশি শখের বসে থিয়েটার এবং অভিনয় করতেন তিনি। কিন্তু এই পরিচয়টা দর্শকদের অনেকের কাছেই অজানা ছিল।
আসলে সাগ্নিক চ্যাটার্জী নিজেও একজন অভিনেতা। ছোট পর্দায় বড় চরিত্রে না হলেও বিভিন্ন ছোট চরিত্রে তাকে দেখা গিয়েছে। দীর্ঘদিন অভিনয়ের প্রতি ভালবাসা থেকেই তিনি কাজ করে গেছেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি আরও বেশি সময় দিতে শুরু করেন অভিনয়কে। তখনই নিজের কিছু পুরনো ইচ্ছেও পূরণ করার কথা ভাবেন তিনি। সেই ইচ্ছার মধ্যেই ছিল গাড়ি চালানো শেখা।
রূপসা জানান, ছোটবেলা থেকেই তার বাবার গাড়ি চালানো শেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু নানা কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। অবশেষে ৬০ বছর বয়সে তিনি ঠিক করেন, এবার গাড়ি চালানো শিখতেই হবে। সেই অনুযায়ী গাড়িও কেনেন তিনি এবং ড্রাইভিং শেখা শুরু করেন। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষাও দিতে যান। সেখানে একজন তাকে প্রশ্ন করেন, “এই বয়সে গাড়ি চালানো শিখছেন কেন?” সাগ্নিক চ্যাটার্জী তখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, তিনি পারবেন। তবে শেখার সময় বেশ কিছু মজার এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনাও ঘটেছিল।
আরও পড়ুনঃ বড় সুযোগের হাতছানি! ছোটপর্দার সাফল্যের পর, এবার বড় পর্দায় অভিনেতা মৈনাক ঢোল! তাহলে কি জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কোনে দেখা আলো’ ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি?
একবার লাইসেন্সের ট্রায়ালের সময় তিনি একটি গাড়ি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় তাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পরিচিত এক চালক মহেন্দ্রবাবুর গাড়িতে ধাক্কা মেরে বসেন। ধাক্কায় গাড়িটি প্রায় ১০ মিটার উপরে গিয়ে আবার নীচে নেমে আসে। দুটো গাড়িই বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার একবার একজন পথচারীকেও পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিয়েছিলেন তিনি, যদিও তাতে গুরুতর কিছু হয়নি। এসব ঘটনার পরেও তিনি গাড়ি চালানো ছাড়েননি। ধীরে ধীরে এখন তিনি ভালোই গাড়ি চালান এবং লাইসেন্সও পেয়ে গিয়েছেন। যদিও রূপসার মা এখনও পুরোপুরি ভরসা করতে পারেননি—তিনি নাকি আজও সামনে না বসে পিছনের সিটেই বসেন। এই ঘটনাই মনে করিয়ে দেয়, বয়স কখনও শেখার পথে বাধা নয়, ইচ্ছা থাকলেই সব সম্ভব।
