জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“মমতা হারেননি, মানুষ সব দেখছে!” “টলিউডকে কতটা উদ্ধার করতে পারবেন জানি না, তবে নিজেদের কেরিয়ার হয়তো ফের গুছিয়ে নিতে পারবেন” তৃণমূলের হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে রূপা-হিরণকে কটা’ক্ষ সায়নীর

বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভোট পরবর্তী হিংসা এবং তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি আদালতে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান অভিনেত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ এবং সাংসদ শতাব্দী রায়। দীর্ঘদিন পর তাঁদের একসঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা যায়। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্তব্য করেন সায়নী। বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো হারেননি। আমরা হারিনি, ভোট চুরি করে ওরা জয়ের ছবি দেখাতে চাইছে।” তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ এই ফল দীর্ঘদিন মেনে নেবে না।

এদিন বিজেপি সরকার এবং বিরোধীদের একাংশকেও তীব্র কটাক্ষ করেন সায়নী ঘোষ। তিনি বলেন, “দুর্নীতি করে কিছুদিন ক্ষমতায় থাকা গেলেও মানুষ ঠিক সময়ে উত্তর দেয়।” বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়েও সরব হন তিনি। সায়নীর বক্তব্য, “যারা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ভাতা বলে কটাক্ষ করছিলেন, তাঁরাই এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারকে মাস্টার স্ট্রোক বলছেন। তাদের নিজেদের একটু আত্মসমালোচনা করা উচিত।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি মানুষ খুব কাছ থেকে দেখছেন। কলকাতার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সকাল, দুপুর বা রাত যেকোনো সময়ের শুনশান কলকাতা নিজেই বলে দিচ্ছে মানুষ খুশি কি না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

দলের খারাপ সময়ে যারা দূরত্ব তৈরি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেন সায়নী। তিনি বলেন, “এই সময়ে যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাঁরা পার্টির জন্য বেনো জল। যত দ্রুত এই বেনো জল সরে যাবে, তত ভালো।” দলবদল এবং শিল্পীদের একাংশের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। সায়নীর দাবি, তৃণমূলের ভিতরে সবসময়ই কথা বলার সুযোগ ছিল, কিন্তু অনেকে তখন মুখ খোলেননি। এখন পরিস্থিতি বদলাতেই তাঁরা নিজেদের অবস্থান পাল্টাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “খারাপ সময়ে অনেকে নিজের স্বার্থ বাঁচানোর জন্য কথা বলছেন।” যদিও কাউকে নাম করে আক্রমণ করেননি তিনি।

টলিউডে কাজের পরিবেশ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন সায়নী ঘোষ। বেশ কয়েকজন শিল্পী অভিযোগ তুলেছেন, রাজনৈতিক কারণে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। সেই প্রসঙ্গে সায়নী বলেন, “ঠিক আছে, তাঁরা খুলে বলুন। যদি তাতে টলিউডকে হলিউড বানানো যায়, তাহলে আপত্তি কোথায়?” একই সঙ্গে বিজেপি বিধায়ক হিরণ এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে টলিউডের দায়িত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তিনি। সায়নী বলেন, “টলিউডকে কতটা উদ্ধার করতে পারবেন জানি না, তবে নিজেদের কেরিয়ার হয়তো ফের গুছিয়ে নিতে পারবেন।” তাঁর এই মন্তব্যও রাজনৈতিক এবং বিনোদন মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

এদিন সায়নী ঘোষকে প্রশ্ন করা হয়, তৃণমূলের পরাজয়ের পর অনেক তারকা ফের অভিনয়ে মন দিচ্ছেন, তাঁরও কি একই পরিকল্পনা রয়েছে? উত্তরে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “আমি মানুষের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমি কেন সব ছেড়ে দেব?” পাশাপাশি তিনি বলেন, “আমি অভিনয় করতে করতেও রাজনীতি করেছি, আবার রাজনীতি করতে করতেই অভিনয় করেছি। যখন যেটা ইচ্ছে, সেটাই করব।” তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা মিডিয়া ঠিক করে দিতে পারে না। শেষেও তিনি কড়া সুরে বলেন, “এটা বিজেপি বা বিজেপির মিডিয়া ঠিক করে দেবে না।” যদিও কারও নাম নেননি, রাজনৈতিক মহলের মতে তাঁর মন্তব্যে একাধিক দলবদলু তারকার প্রতি ইঙ্গিত ছিল।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page