জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“একটাই আফসোস থেকে গিয়েছে আমার…” ইংলিশ অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করেও কেন আজও গ্র্যাজুয়েশনের ডিগ্রি নেই শ্রুতি দাসের কাছে? কী এমন ঘটেছিল যে মাঝপথেই থেমে যায় অভিনেত্রীর কলেজ জীবন?

শিল্পীদের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, বাস্তবে তার আড়ালেও থেকে যায় অনেক না-পাওয়া আর আক্ষেপের গল্প। সাফল্য, জনপ্রিয়তা, ক্যামেরার আলো সবকিছুর মাঝেও কোথাও না কোথাও কিছু অপূর্ণতা থেকে যায়, যা হয়তো সময়ের সঙ্গে আরও বেশি অনুভব করা যায়। বিশেষ করে অভিনয় জগতের অনেকেই খুব অল্প বয়সে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেন, যার প্রভাব পড়ে ব্যক্তিগত জীবনেও। কেউ পরিবারকে সময় দিতে পারেন না, কেউ আবার পড়াশোনা শেষ করতে পারেন না। ঠিক তেমনই এক আক্ষেপের কথাই এবার খোলাখুলি জানালেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস।

বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে শ্রুতি দাস এখন অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। ‘ত্রিনয়নী’ ধারাবাহিকের হাত ধরে ছোটপর্দায় তার অভিনয় যাত্রা শুরু হয়। প্রথম ধারাবাহিক থেকেই নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের নজর কেড়ে নেন তিনি। শুধুমাত্র টেলিভিশনেই আটকে থাকেননি শ্রুতি, খুব দ্রুত ওয়েব সিরিজ এবং সিনেমার জগতেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। ‘ডাইনি’ ওয়েব সিরিজে অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও তার অভিনয় আলাদা করে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এরপর উইন্ডোজ প্রোডাকশনের ‘আমার বস’ ছবিতেও দেখা যায় তাকে। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু গ্ল্যামারের জন্য নন, অভিনয় দক্ষতার জোরেই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিতে চান।

গত বছর আবারও ধারাবাহিকের জগতে ফিরে আসেন শ্রুতি। জি বাংলার ‘জোয়ার ভাটা’ ধারাবাহিকে আরাত্রিকা মাইতির সঙ্গে জুটি বেঁধে নতুনভাবে নিজের যাত্রা শুরু করেন তিনি। এই ধারাবাহিকে তার চরিত্রটি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়, আবার একেবারে ইতিবাচকও নয়। চরিত্রের মধ্যে থাকা নানা শেডই দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে তাকে। প্রথম থেকেই দর্শকদের মধ্যে তার চরিত্র নিয়ে আলাদা আলোচনা শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তার অভিনয়ের নানা মুহূর্ত ভাইরাল হয়েছে। খুব কম সময়ের মধ্যেই শ্রুতি বুঝিয়ে দিয়েছেন, চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ।

তবে এত সাফল্য, জনপ্রিয়তা আর প্রশংসার মাঝেও অভিনেত্রীর মনে রয়ে গিয়েছে একটি বড় আফসোস। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রুতি জানান, অভিনয়ের জন্যই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাকে। অভিনেত্রীর কথায়, যখন ‘ত্রিনয়নী’ ধারাবাহিকের অফার আসে, তখন তিনি কলেজের থার্ড ইয়ারে পড়ছিলেন। সেই সময় তাকে পড়াশোনা আর অভিনয়ের মধ্যে কোনও একটি বেছে নিতে হয়। শ্রুতি জানান, তখন তিনি ভেবেছিলেন অভিনয়ের সুযোগ হাতছাড়া করলে হয়তো পরে আর এমন সুযোগ নাও আসতে পারে। তাই তিনি অভিনয়কেই বেছে নেন এবং মনে করেছিলেন পরে পড়াশোনা শেষ করবেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেটা আর হয়ে ওঠেনি।

অভিনেত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, ইংলিশ অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করলেও পরীক্ষাটা আর দেওয়া হয়নি। তার কথায়, যদি পরীক্ষাটা দিতে পারতেন তাহলে অন্তত একটি ডিগ্রি তার কাছে থাকত। বর্তমানে নিজেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ বলতেই হয় তাকে, আর সেটাই তার সবচেয়ে বড় আফসোস। যদিও পড়াশোনা থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি শ্রুতি। সাহিত্য পড়তে এখনও ভালোবাসেন তিনি। বিভিন্ন ধরনের লিটারেচার এখনও পড়েন নিয়মিত। তবে পরীক্ষার জন্য আলাদা করে আর প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত তাকে আজ সফল অভিনেত্রী বানিয়েছে ঠিকই, কিন্তু কোথাও না কোথাও পড়াশোনা শেষ না করতে পারার আক্ষেপ এখনও তার মনের মধ্যে রয়ে গিয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page