‘আমার গান শুনে জেগে যায়, শোভনের গান শুনে ঘুমিয়ে পড়ে!’ মাতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতায় অকপট সোহিনী

মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা যে জীবনের অনেক হিসেব বদলে দেয়, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। পর্দায় নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন, মায়ের ভূমিকাতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। কিন্তু বাস্তব জীবনে মা হওয়ার অনুভূতি যে একেবারেই আলাদা, তা বুঝতে পারছেন ছেলের জন্মের পর। নতুন অতিথিকে ঘিরেই এখন সোহিনী ও তাঁর স্বামী শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের দিন কাটছে। ঘুমহীন রাত, সন্তানের যত্ন আর ছোট ছোট মুহূর্তে আনন্দ খুঁজে নেওয়া, সব মিলিয়ে তাঁদের জীবনে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সোহিনী ও শোভনের সংসারে এসেছে পুত্রসন্তান বীরপুরুষ। তার পর থেকে একরত্তিকে ঘিরেই তাঁদের ব্যস্ততা। সম্প্রতি ‘বহুরূপী’ ছবির সাফল্য উদ্‌যাপন ও প্রচারের পর্বে এসে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খোলেন অভিনেত্রী। সন্তানকে সামলাতে রাত জাগতে হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে সোহিনী জানান, তাঁরা দু’জনেই পালা করে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। একজন যখন সন্তানের পাশে জেগে থাকছেন, অন্যজন তখন বিশ্রাম নিচ্ছেন। তাঁর কথায়, একা একজনের পক্ষে সবটা সামলানো সম্ভব নয়। তাই একে অপরের পাশে থেকেই নতুন দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা।

তবে সন্তানকে ঘুম পাড়ানোর প্রসঙ্গে সোহিনীর কথায় উঠে এসেছে মজার এক অভিজ্ঞতাও। অভিনেত্রী হাসতে হাসতে জানান, তাঁর গান শুনে ছেলে জেগে যায়, অথচ শোভনের গান শুনলে ঘুমিয়ে পড়ে! নিজের গানের গুণমান নিয়েও মজা করতে ছাড়েননি সোহিনী। বেসুরো গলাতেই ছেলেকে গান শুনিয়ে চলেছেন তিনি। আসলে সন্তানের সঙ্গে কাটানো এমন ছোট ছোট মুহূর্তই এখন তাঁর কাছে বিশেষ আনন্দের। একরত্তির মুখের অভিব্যক্তি থেকে তার নানা আচরণ, সবই যত্ন করে মনে ধরে রাখতে চান নতুন মা।

মা হওয়ার পর নিজের মায়ের প্রতিও যেন আরও গভীরভাবে অনুভব করতে পারছেন সোহিনী। অভিনেত্রী জানান, তাঁর মা এখন প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়িতে আসেন। আর মেয়েকে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মজা করে বলেন, এত দিন মায়ের সঙ্গে তর্ক বা ঝগড়া করার পর এখন বুঝতে পারছেন মা হওয়ার কষ্ট কতটা। সোহিনীর কথায়, নিজের সন্তান হওয়ার পর মায়ের পরিশ্রম ও ত্যাগের অর্থ যেন নতুন করে উপলব্ধি করছেন তিনি।

এদিকে, সদ্য মা হওয়ার কারণে পুজোর আগে মুক্তি পাওয়া ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’-র প্রিমিয়ারে উপস্থিত থাকতে পারেননি অভিনেত্রী। তখন সদ্যোজাতকে সামলানোই ছিল তাঁর প্রধান দায়িত্ব। পরে দর্শকদের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সোহিনী এবং প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখার আবেদন জানান। কাজের জগৎ ও মাতৃত্ব, দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করার এই সময়টা যে তাঁর কাছে একেবারে নতুন, তা স্পষ্ট অভিনেত্রীর কথাতেই। আপাতত ছেলেকে ঘিরেই সোহিনী-শোভনের ছোট্ট পৃথিবী।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page