বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ বা বলা ভালো সবার প্রিয় ‘মিঠাই’ (Mithai), সৌমিতৃষা কুণ্ডু (Soumitrisha Kundu) প্রতি বছর জন্মদিন মানেই বৃন্দাবনে কাটান আর এই কথা অনেকেই জানেন। ছোটবেলা থেকেই শ্রীকৃষ্ণের প্রতি তাঁর টান গভীর, তাই বিশেষ দিনটায় মন্দিরে প্রার্থনা আর ভক্তিমূলক পরিবেশেই থাকতে পছন্দ করেন তিনি। তবে এই বছর সেই চেনা ছন্দে খানিক বিরতি পড়েছে। আগেভাগেই টিকিট কাটা, হোটেল বুকিং সবকিছু প্রস্তুত ছিল, এমনকি পুজোর সময় পরবেন বলে আলাদা করে পোশাকও গুছিয়ে রাখা হয়েছিল।
কিন্তু শেষমেশ আর যাওয়া হল না! কারণটা অবশ্য বেশ গুরুতর। কয়েকদিন আগেই তাঁর মা এক অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। পায়ের আঙুলের হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, অস্ত্রোপচার করে প্লেট বসাতে হয়! চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ যে কমপক্ষে এক মাস সম্পূর্ণ বিশ্রাম। এমন পরিস্থিতিতে পরিবার ছেড়ে বাইরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। চারদিন হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে তাঁদের। নিজের শরীর খারাপ থেকে সদ্য সেরে ওঠার পরেই মায়ের এই দুর্ঘটনা!
স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত, জন্মদিনের আগের রাতে অবশ্য ঘরোয়া ভাবে কেক কেটে উদযাপন হয়েছে। অনুরাগী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভরে উঠেছে তাঁর ফোন। তবুও কোথাও একটা খালি খালি অনুভূতি ছিল, কারণ বছরের এই সময়টা তিনি অন্যভাবে কাটাতে অভ্যস্ত। তাঁর কথায়, ‘কখনও কখনও সব পরিকল্পনা করেও তা পূরণ হয় না, হয়তো এর মধ্যেও কোনও ইশারা লুকিয়ে থাকে।’
এই ভাবনাই তাঁকে মানসিকভাবে সামলে উঠতে সাহায্য করেছে। তাঁর কথায়, মায়ের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল আর এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি। বাড়িতে থেকেই সকালে মিলে ভক্তিমূলক গান চালিয়ে পুজো করেছেন। বাইরে যাওয়া না হলেও ভক্তিভাবের ঘাটতি রাখেননি। পরিবারের পাশে থেকে, প্রার্থনায় মন দিয়ে দিনটা শুরু করতেই মন কিছুটা হালকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
আরও পড়ুনঃ মাত্র ৩৭ বছরেই উজ্জ্বল নক্ষত্রের অকাল প্র’য়াণ! জীবনের চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়নকেও নিয়তির কাছে হারতে হয়! প্রিয় অভিনেতার শোকে স্তব্ধ অনুরাগীরা! কী হয়েছিল তাঁর?
পুজো ছাড়াও, সারাদিন ধরে উদযাপনের পরিকল্পনাও ছিল একেবারে ঘরোয়া। বাড়িতে পোলাও, আলুর দমসহ পছন্দের নানান পদ রান্না হয়েছিল। কয়েকজন আত্মীয়ও এসেছিলেন, সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডাতেই দিনটা কাটিয়েছেন তিনি। হয়তো বৃন্দাবনের মন্দিরে পৌঁছনো হয়নি এই বছর, কিন্তু পরিবারের সান্নিধ্য আর মায়ের সুস্থতার আশ্বাসই তাঁর জন্মদিনকে অন্যরকম অর্থ এনে দিয়েছে। তবে, খুব তাড়াতাড়িই একবার বৃন্দাবন যাবেন এমন কথাও বলেছেন।
