আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে জোরকদমে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রচার। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নিজেদের এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে নামছেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ সৌমিতৃষা কুণ্ডু। রবিবার বিকেলে নদিয়ার গয়েশপুর ও হরিণঘাটায় তাঁর সভা করার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তিনি প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় উৎসাহ ও কৌতূহল দুটোই দেখা যাচ্ছে।

প্রচার নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, এর আগেও একাধিকবার দলের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রচার করেছেন। রাজ চক্রবর্তী ও পার্থ ভৌমিকের সঙ্গে তিনি বেশ কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এবারের প্রচার তিনি একাই করছেন, যা তাঁর কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। দলের কাছ থেকে যে সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছেন, সেটাকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। এই দায়িত্ব তিনি গুরুত্ব দিয়ে পালন করতে চান বলেও জানান।
আরও পড়ুনঃ “আমি শুধু শান্তি চাই, আর প্রত্যাশা নয়…গুরুত্ব পেতে চেষ্টা করে ক্লান্ত” রবিবার সকালেই সমাজ মাধ্যমে, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বি*স্ফোরণ আরাত্রিকা মাইতির! কাকে উদ্দেশ্য করে এমন বললেন, ‘জোয়ার ভাঁটা’র উজি?
সৌমিতৃষার মতে, পরিচিত মুখরা মানুষের কাছে গেলে আলাদা প্রভাব তৈরি হয়। সাধারণ মানুষ তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনেন এবং অনেক সময় বিশ্বাসও করেন। এই বিশ্বাসের জায়গাটাকেই তিনি কাজে লাগাতে চান। নদিয়ার মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা জানতে চান তিনি। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কেও মানুষকে জানাবেন। মানুষের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। এইভাবে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চান অভিনেত্রী।

প্রচারের সময় তিনি কৃষকদের জন্য কিছু উদ্যোগের কথাও তুলে ধরবেন বলে জানান। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সাথী, যুব সাথী, কন্যাশ্রী এবং লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করবেন। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবে কতটা কাজে লাগছে, সেই বিষয়েও মানুষের মতামত জানার চেষ্টা করবেন। তাঁর মতে, মানুষের কাছে গিয়ে কথা বলা এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনা খুব জরুরি। একজন প্রতিনিধি হিসেবে এটাকেই তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেন। যদি তাঁর কথায় কেউ উপকৃত হন, সেটাকেই তিনি নিজের বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন।
অভিনেত্রীকে ঘিরে প্রার্থী হওয়ার জল্পনাও একসময় জোরালো ছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি হয়তো এবার নির্বাচনে টিকিট পেতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না হলেও দলের হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ভবিষ্যতে রাজনীতিতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি খুব আগ্রহী নন বলেই জানান। তিনি বলেন, বাইরে থেকে রাজনীতি দেখা তাঁর ভালো লাগে, কিন্তু নিজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার ইচ্ছে নেই। দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি এই প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। এখন তাঁর লক্ষ্য মানুষের কাছে পৌঁছনো এবং দলের পাশে থাকা।
