জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“টিফিনে থাকত মাত্র ৫টা মেরি বিস্কুট, মায়ের ওপর খুব রাগ হত!” বাবা-মা দুজনেই ছিলেন চাকরিজীবী, দু’জনের তীব্র ব্যস্ততায় তবে কী অবহেলায় বড় হন অভিনেতা? কী নিয়ে অভিমান রয়েছে তাঁর?

তারকাদের জীবনের নানা অজানা গল্প, শৈশবের স্মৃতি কিংবা পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ছোট ছোট মুহূর্ত সম্পর্কে জানতে দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই থাকে। পর্দায় যাঁদের আত্মবিশ্বাসী এবং সফল রূপ দেখা যায়, তাঁদের জীবনেও থাকে অনেক সাধারণ অভিজ্ঞতা, যা সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়। বিশেষ করে ছোটবেলার স্মৃতি, স্কুলজীবনের ঘটনা কিংবা বাবা-মাকে ঘিরে আবেগঘন মুহূর্তগুলো ভক্তদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। সম্প্রতি এমনই এক মজার অথচ আবেগমিশ্রিত স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা সৌরভ দাস।

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ সৌরভ দাস নিজের অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মন জয় করেছেন। বিভিন্ন সিনেমা, ওয়েব সিরিজ এবং টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছে বহুবার। তবে পর্দার বাইরে সৌরভের সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব এবং নিজের জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলার অভ্যাসও দর্শকদের কাছে তাঁকে আরও কাছের মানুষ করে তুলেছে। সম্প্রতি একটি বিনোদনমূলক ভিডিওর আলাপচারিতায় তিনি শৈশবের এমন একটি স্মৃতি তুলে ধরেছেন, যা শুনে অনেকেই নিজের ছোটবেলার কথা মনে করতে পারেন।

সাক্ষাৎকারে সৌরভ মজা করেই জানান, স্কুলে পড়ার সময় টিফিন নিয়ে তাঁর মনে একটা ছোট্ট অভিমান ছিল। অভিনেতার কথায়, তাঁর মা স্কুলে টিফিনের জন্য প্রায়ই মাত্র ৫টা মেরি বিস্কুট দিয়ে দিতেন। সেই সময় ছোট্ট সৌরভের মনে হত, এত কম টিফিন নিয়ে কীভাবে সারাদিন কাটানো যায়! যদিও আজ সেই ঘটনাকে তিনি হাস্যরসের সঙ্গেই স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবা এবং মা দুজনেই চাকরি করতেন। ফলে প্রতিদিন খুব সাজিয়ে-গুছিয়ে টিফিন তৈরি করার মতো সময় তাঁদের হাতে থাকত না। তবুও যতটা সম্ভব, তাঁরা ছেলের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতেন।

অভিনেতা জানান, এমন নয় যে তিনি সবসময় শুধু বিস্কুটই পেতেন। অনেক সময় ভালো খাবারও টিফিনে থাকত। কিন্তু মাঝে মাঝেই আবার সেই কয়েকটি মেরি বিস্কুটই তাঁর ভরসা হয়ে উঠত। আর সেই কারণেই হয়তো ছোটবেলায় মায়ের উপর একটু অভিমানও জমেছিল তাঁর মনে। বর্তমানে সেই স্মৃতি মনে পড়লে অবশ্য তিনি বুঝতে পারেন, ব্যস্ত কর্মজীবনের মধ্যেও তাঁর বাবা-মা সন্তানের যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেছেন নিজেদের মতো করে। তাই সেই অভিমান এখন আর অভিযোগ নয়, বরং মধুর স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।

এই প্রসঙ্গে সৌরভ আরও একটি মজার ঘটনা শেয়ার করেন। তিনি জানান, স্কুলজীবনে তাঁর এক বিশেষ বন্ধুর সঙ্গে টিফিন টাইমে বেশ ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। তবে সেই বন্ধুত্বের পেছনে ছিল একটি মজার কারণ। অভিনেতার সেই বন্ধু প্রায় প্রতিদিনই টিফিনে ম্যাগি নিয়ে আসত এবং সঙ্গে আলাদা করে ম্যাগির মসলাও রাখত। ছোট্ট সৌরভের সেই মসলা ভীষণ পছন্দ ছিল। তাই সেই মসলা পাওয়ার আশাতেই তিনি বন্ধুর সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতেন এবং টিফিনের সময় তার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করতেন। বহু বছর পর সেই স্মৃতি মনে করে হাসতে হাসতেই নিজের ছোটবেলার অভিমান এবং বন্ধুত্বের গল্প তুলে ধরেছেন সৌরভ দাস। তাঁর এই সরল স্বীকারোক্তি আবারও প্রমাণ করল, জনপ্রিয় অভিনেতাদের জীবনেও লুকিয়ে থাকে একেবারে সাধারণ মানুষের মতোই অনেক মিষ্টি, মজার এবং নস্টালজিয়ায় ভরা স্মৃতি।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page