টলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। এক সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যেত। পার্টি বা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিতি এবং ঘনিষ্ঠ আচরণে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। তবে নিজেদের পক্ষ থেকে তারা সব সময়ই শুধুমাত্র বন্ধুত্বের কথা বলেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি সিনেমার প্রমোশনে সুস্মিতার মুখোমুখি হয়ে এই সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে বললেন, ‘এখন আমাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই। উনিও ব্যস্ত, আমিও ব্যস্ত। সবই ঠিক আছে।’
সুস্মিতা বলেন, আগে যখন সিনেমার প্রমোশন চলছিল, তখন বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর কারণে গুঞ্জনগুলো সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি সৃজিতকে সবসময় একজন গুণী ও ভালো পরিচালক হিসেবে সম্মান করেন। তবে এখন দুজনের ব্যক্তিগত জীবনে সময়ের ব্যবধান এবং ব্যস্ততার কারণে তারা আলাদা পথেই এগোচ্ছে। সুস্মিতার কথায় বোঝা যায় যে অতীতের গুঞ্জনগুলোর মধ্যে আর কোনো রকম রোমান্টিক সম্পর্ক নেই।
গুঞ্জন ওঠার শুরু হয়েছিল ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবির শুটিংয়ের সময়। সমুদ্রতটের একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর এই সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এমনকি সুস্মিতার পরিবারও কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়েছিল। বয়সে বড় এবং বিবাহিত পরিচালক সৃজিতের সঙ্গে সুস্মিতার ঘনিষ্ঠতা অনেকের চোখে অপ্রচলিত মনে হয়েছে। তবে দুজনের পেশাদার সম্পর্ক সবসময়ই সকলকে প্রাধান্য দিয়েছে।
বর্তমানে সুস্মিতা বাংলাদেশের সিনেমা ‘রাক্ষস’-এর প্রমোশনে ব্যস্ত। একই সময়ে সৃজিত তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়েই ব্যস্ত। চলতি বছরের ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে সুস্মিতা স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সিঙ্গেল। কোনো ভ্যালেন্টাইন খুঁজছি না। সময় পেলে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করব, বাকি সব কাজের মধ্যে দিয়ে সময় কাটছে।’ এর মাধ্যমে সুস্মিতা নিজেকে পেশাদার জীবন এবং বন্ধুদের মধ্যেই সময় দিচ্ছেন বলে স্পষ্ট করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘সাবধান হোন আপনারা…’ বাংলাদেশ থেকে রথীজিত ভট্টাচার্যের নাম ব্যবহার করে প্রতা’রণার ফাঁদ! অনুরাগীদের সতর্কতা অবলম্বনে কী উপদেশ গায়কের?
সুস্মিতা এবং সৃজিতের সম্পর্ক এখন মূলত বন্ধুত্বের পর্যায়ে। অতীতে গুঞ্জন থাকলেও এখন তারা একে অপরের ব্যক্তিগত জীবনে আর সম্পৃক্ত নন। অভিনেত্রী নিজের কাজ এবং নতুন প্রোজেক্ট নিয়ে সম্পূর্ণ ফোকাস করছেন। পেশাদার জীবনের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে ভক্ত এবং মিডিয়ার জন্য স্পষ্ট হয়েছে যে, তাদের সম্পর্ক শুধু বন্ধুত্বে সীমাবদ্ধ।
