বাংলা বিনোদন দুনিয়ায় চৈতন্যদেবের চরিত্র সব সময়ই আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা, এই চরিত্রে যাঁরা অভিনয় করেছেন, দর্শকদের কাছেও তাঁরা বিশেষ প্রশংসা পেয়েছেন। যিশু সেনগুপ্ত থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে দিব্যজ্যোতি দত্ত, প্রত্যেকেই নিজেদের অভিনয়ে আলাদা ছাপ রেখেছেন। এবার সেই তালিকায় উঠে এসেছে নতুন নাম স্বর্ণাভঋত সান্যাল। বর্তমানে তিনি ছোটপর্দার ধারাবাহিক ‘তাঁরে ধরি ধরি মনে করি’-তে চৈতন্যদেবের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন এই তরুণ অভিনেতা। অনেকেই বলছেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্বর্ণাভ এই চরিত্রে বেশ মানিয়ে গিয়েছেন। ফলে তাঁর জনপ্রিয়তাও দ্রুত বাড়ছে।
বর্তমানে টেলিভিশনের গল্পে যেখানে সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা পুরনো প্রেমের প্রত্যাবর্তন বেশি দেখা যায়, সেখানে ধর্মীয় আখ্যানভিত্তিক ধারাবাহিক দর্শকদের আগ্রহ কাড়ছে। এই প্রসঙ্গে স্বর্ণাভ জানিয়েছেন, “দর্শক দেখছেন বলেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকটি রেটিং তালিকায় ভাল জায়গায় রয়েছে।” তাঁর কথায়, সমাজমাধ্যমে প্রতিদিন বহু মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। দর্শকদের এই ভালবাসা তাঁকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলছে। অভিনয়ের পাশাপাশি এই সাড়া তিনি উপভোগও করছেন। তরুণ বয়সেই এমন গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি।
তবে পর্দার আধ্যাত্মিক চরিত্রের বাইরে বাস্তব জীবনে স্বর্ণাভ একেবারেই অন্য মানুষ। তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র এবং বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন। খুব ছোট বয়স থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পড়াশোনাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। ঈশ্বরের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কখনও দ্বিধা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা স্পষ্ট বলেছেন, “না, কোনও দ্বিধা হয়নি।” তাঁর মতে, দীর্ঘদিন অভিনয় করার অভিজ্ঞতায় তিনি ব্যক্তিগত জীবন ও চরিত্রের জগৎকে আলাদা করে দেখতে শিখেছেন। তাই চরিত্রের গভীরে গেলেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার থাকে।
স্বর্ণাভ আরও জানান, এর আগেও তিনি একাধিক দেবদেবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কখনও রামকৃষ্ণদেব, কখনও আবার বিষ্ণুর বামন অবতার হিসেবেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। তাই এমন চরিত্র এখন আর তাঁর কাছে নতুন নয়। ঈশ্বরে বিশ্বাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঈশ্বর আমার কাছে এক ধরনের শক্তি। আমি সেই শক্তিতে বিশ্বাস করি।” তিনি মনে করেন, নিয়ম মেনে চলা এবং শৃঙ্খল জীবনই ভাল কিছুর পথ দেখায়। বিশৃঙ্খলা কোনও ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফল আনে না, তা কাজের জায়গা হোক বা জীবনের অন্য অংশে। এই ভাবনাই তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কেন্দ্র।
আরও পড়ুন : নাম আছে, খ্যাতি আছে, তবুও সুযোগ দেয় না কেউ! দেড় বছর কাজ ছাড়া, চোখে জল নিয়ে অভাবে কাটানো দিন! অবশেষে ‘সংসারের সংকীর্তন’-এর হাত ধরে পর্দায় ফিরতেই মুখ খুললেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়! ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন?
চৈতন্যদেবের চরিত্রে অভিনয় করলে অনেক সময় অভিনেতার উপর সেই ভাবমূর্তির ছাপ থেকে যায়। তবে এই বিষয়ে কোনও ভয় নেই স্বর্ণাভের। তিনি বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতে অন্য চরিত্রেও তাঁকে ভাববেন নির্মাতারা। নিজের প্রিয় চৈতন্যদেবের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “যিশুদা আমার চোখে সেরা চৈতন্যদেব। ওঁর মতো অভিনেতা খুব কম দেখা যায়, ওঁকে দেখে অনেক কিছু শেখার আছে।” পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের ‘অভিমান’ ছবিতে যিশু সেনগুপ্তর ছোটবেলার চরিত্রেও অভিনয় করছেন তিনি। ফলে ছোটপর্দা ও বড়পর্দা মিলিয়ে তাঁর যাত্রা এখন আরও ব্যস্ত ও উজ্জ্বল।
