টলিউডে সম্প্রতি নানা আলোচনার মাঝেই নতুন করে একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। শোনা যাচ্ছিল, জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কুসুম’-এর শুটিং চলাকালীন গুরুতরভাবে পুড়ে গিয়েছেন অভিনেত্রী তনিষ্কা তিওয়ারি। এই খবর সামনে আসে প্রযোজক রাণা সরকারের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে। তিনি দাবি করেছিলেন, একটি সিরিয়ালের সেটে এক অভিনেত্রী আগুনে পুড়ে যান এবং সেই ঘটনাকে নাকি চাপা দেওয়া হয়েছে। পোস্টে আরও বলা হয়, ওই অভিনেত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন এবং মুখ ও হাতে আঘাত লাগার কারণে তাকে নাকি বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দিতে হয়। এই অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
রাণা সরকারের ওই পোস্টে আরও প্রশ্ন তোলা হয়, কেন এমন একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এল না এবং কেন কেউ শাস্তি পেল না। তিনি শিল্পী সংগঠন এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই ধরে নেন, ‘কুসুম’ ধারাবাহিকের নায়িকা তনিষ্কা তিওয়ারির কথাই বলা হচ্ছে, কারণ তিনিই এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং নানা ধরনের খবর ছড়াতে শুরু করে।
এই পরিস্থিতিতে তনিষ্কার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর মা টিনা তিওয়ারি পুরো বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি জানান, এই ধরনের খবর কোথা থেকে আসছে তা তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অজানা। তাঁর কথায়, ৭ মার্চ তনিষ্কার পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং সে নিজের যোগ্যতায় স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা দিয়েছে। কোথাও কোনও বিশেষ সাহায্যের প্রয়োজন পড়েনি। শুটিংয়ের সময় বড় ধরনের কোনও দুর্ঘটনাও ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
টিনা তিওয়ারি জানান, শুটিং চলাকালীন একটি আগুনের দৃশ্যে তনিষ্কার হাতে থাকা ধাতুর চুড়ি গরম হয়ে যায়। এর ফলে হাতে সামান্য ফোসকা পড়ে, যা খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, রান্না করতে গিয়ে যেমন তেলের ছিটে লাগলে সামান্য পোড়া লাগে, এটাও ঠিক তেমনই। ওই ঘটনার পর তনিষ্কা আবার স্বাভাবিকভাবেই শুটিংয়ে অংশ নেয় এবং পরীক্ষাও দেয়। তাঁর মতে, এই ছোট ঘটনার সঙ্গে মুখ পুড়ে যাওয়ার মতো বড় কোনও বিষয়ের মিল নেই।
আরও পড়ুনঃ ধার নিয়ে ৬৮ লক্ষ টাকা গায়েব! সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা দায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে চাপের মুখে তারকা প্রার্থী?
তনিষ্কার মা আরও জানান, ঘটনাটি সাম্প্রতিক নয়, বরং দোলের সময় একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় ঘটেছিল। তখনই সঙ্গে সঙ্গে চুড়ি খুলে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয় এবং পরে ব্যান্ডেজও করা হয়। প্রযোজনা সংস্থার তৎপরতায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি জানান। তাঁর প্রশ্ন, যদি এত বড় কিছু ঘটত, তাহলে কি তা অজানা থাকত? প্রতিদিন যাকে দর্শক টিভির পর্দায় দেখছেন, তাকে নিয়ে এমন গুজব ছড়ানো কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
