জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“এটা ফল নয়, গীতশ্রীর প্রতি অবিচার!” “যোগ্য শিল্পীকেই বঞ্চিত করা হলো” সারেগামাপার ফল ঘিরে বিতর্কে সরগরম নেটপাড়া! গায়িকা গীতশ্রী চৌধুরী প্রথম রানারআপ হতেই অন্যায্য বিচার নিয়ে ক্ষো’ভ উগরে দিলেন দর্শকরা! আপনারও কি একই মত?

জি বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীতভিত্তিক রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা’র এবারের মরশুম শেষ হয়েছে জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালের মধ্য দিয়ে। প্রতিযোগিতার শেষ পর্বে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি জিতে নেন উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের আয়ুষ গুপ্তা। তবে ফল ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রামের গীতশ্রী চৌধুরী। অসাধারণ গায়কি, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প জানার পর অনেক দর্শকের প্রত্যাশা ছিল, এবার ট্রফিটা হয়তো তাঁর হাতেই উঠবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ না হওয়ায় অনুরাগীদের একাংশ প্রকাশ্যে হতাশা জানাতে শুরু করেছেন।

গীতশ্রীর জীবনযাত্রা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প। ছোটবেলায় আর্থিক অভাবের মধ্যে বড় হওয়া, একসময় দরমার ঘরে বসবাস, পরে আমফান ঝড়ে মাথার উপর থাকা ছাদও হারানোর মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি। কিন্তু এত প্রতিকূলতার মধ্যেও গানকে কখনও ছাড়েননি। বছরের পর বছর নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে পরিশ্রম করে গিয়েছেন। সেই লড়াইয়ের ফল হিসেবেই তিনি সারেগামাপার গ্র্যান্ড ফিনালের মঞ্চে পৌঁছেছিলেন, যা অনেক দর্শকের কাছেই ছিল বড় জয়ের সমান।

ফল প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে গীতশ্রীকে ঘিরে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার ঢেউ দেখা যায়। অনেকেই লিখেছেন, তাঁর কণ্ঠ, মঞ্চে আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিটি পরিবেশনাই তাঁকে প্রকৃত চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা দেওয়ার মতো ছিল। কারও কথায়, “ট্রফি না পেলেও আমাদের কাছে গীতশ্রীই সেরা।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “এত বড় সংগ্রামের পর এমন একজন শিল্পীকে খালি হাতে ফিরতে দেখে সত্যিই মন ভেঙে গেল।” যদিও অনুষ্ঠানের ফলাফলকে সম্মান জানিয়েই তাঁরা এই মত প্রকাশ করেছেন, তবুও হতাশার সুর স্পষ্ট।

শুধু মন খারাপই নয়, একাংশ দর্শক বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এই মরশুমে গীতশ্রী ধারাবাহিকভাবে যেভাবে নিজের গানের মান ধরে রেখেছিলেন, তাতে তিনি শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার ছিলেন। কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “যোগ্য শিল্পীকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হলো না”, আবার অনেকে সরাসরি “অবিচার” এবং “অন্যায়” শব্দও ব্যবহার করেছেন। যদিও এই সমস্ত মন্তব্য সম্পূর্ণই দর্শকদের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া, অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

অন্যদিকে, অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে একটি রিয়্যালিটি শোয়ের ট্রফির থেকেও বড় বিষয় হল একজন শিল্পীর ভবিষ্যতের পথচলা। গীতশ্রীর কণ্ঠ, পরিশ্রম এবং লড়াইয়ের গল্প ইতিমধ্যেই অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাই তাঁদের বিশ্বাস, এই ফলাফল তাঁর যাত্রার শেষ নয়, বরং আরও বড় সাফল্যের শুরু। ট্রফি না পেলেও তিনি যে হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা, সম্মান এবং সমর্থন অর্জন করেছেন, সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন বহু অনুরাগী।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page