জি বাংলার ‘পরিণীতা’ (Parineeta) ধারাবাহিকে রায়ান ও পারুলকে ঘিরে গল্প যত এগোচ্ছে, ততই তাঁদের জীবনে নতুন নতুন সমস্যা সামনে আসছে। ধারাবাহিকটির শুরু থেকেই রায়ানের জীবন, তার সিদ্ধান্ত এবং পারুলের সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে একাধিক ওঠাপড়া দেখেছেন দর্শকরা। বর্তমানে গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে রায়ানের কলেজজীবনের অভিজ্ঞতা। আর সেখানেই উঠে এসেছে এমন একটি বিষয়, যা শুধু ধারাবাহিকের গল্প নয়, বাস্তব জীবনেও বহু পড়ুয়ার কাছে পরিচিত র্যা*গিং।
সাম্প্রতিক পর্বে রায়ানকে নিয়ে মোনালি, তার প্রেমিক রাহুল, সানি এবং প্রিয়ম্বদার আচরণ দর্শকদের একাংশকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে। মোনালি বুঝতে পেরেছিল যে রায়ান তার প্রতি দুর্বল। সেই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করে রায়ানকে নিয়ে মজা করার পরিকল্পনা করা হয়। তাঁকে চাপ দিয়ে মোনালিকে প্রপোজ করানো এবং পরে সেই পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে ঠাট্টা করার ঘটনাই শেষ পর্যন্ত রায়ানের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। বাইরে থেকে দেখলে হয়তো ঘটনাটি কয়েকজন কলেজপড়ুয়ার মজা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু রায়ানের ক্ষেত্রে তার ফল একেবারেই হালকা ছিল না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দর্শকদের একাংশ বলছেন, কলেজে ‘মজা’ বা ‘ফান’ করার নামে কাউকে দল বেঁধে হেনস্থা করা মোটেই স্বাভাবিক বিষয় নয়। বিশেষ করে নতুন বা তুলনামূলকভাবে সহজ-সরল কোনও পড়ুয়াকে একা পেয়ে তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করে হাসাহাসি করা, মানসিক চাপ তৈরি করা কিংবা অপমান করার মতো ঘটনাকে অনেকেই র্যাগিংয়েরই একটি রূপ হিসেবে দেখছেন। রায়ানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে, কারণ ওই ঘটনার ধাক্কা তার পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনের উপরও পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তার একটি বছর নষ্ট হয়ে যায়।
ধারাবাহিকের এই ট্র্যাক সামনে আসতেই দর্শকদের অনেকেই নিজেদের কলেজজীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঘটনাটির তুলনা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, র্যাগিংকে অনেক সময় সিনিয়রদের নিছক মজা বা কলেজের স্বাভাবিক সংস্কৃতি বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কোনও ব্যক্তিকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু করতে বাধ্য করা বা তাকে অপমান করে আনন্দ পাওয়ার মধ্যে মজার কিছু নেই। বিশেষ করে দল বেঁধে একজন জুনিয়রের উপর চাপ তৈরি হলে তার পক্ষে পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কথা বলাও কঠিন হয়ে যায়। তাই রায়ানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে দর্শকদের একাংশ শুধুই ধারাবাহিকের নাটকীয়তা হিসেবে না দেখে একটি বাস্তব সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন।
আরও পড়ুনঃ নায়কের থেকে নিজে পেয়েছিলেন ইনস্ট্যান্ট ক্যামেরা, জন্মদিনে অভিষেককে কী দিলেন আরাত্রিকা? উপহার খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ অভিনেতার!
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নতুন করে কলেজে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের জন্য এই গল্পটি একটি সতর্কবার্তাও তৈরি করেছে। র্যাগিং বা মানসিক হেনস্থার মুখোমুখি হলে সেটাকে চুপ করে সহ্য না করে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজনে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর কথাই দর্শকদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন। কারণ কয়েক মুহূর্তের মজা বা জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা একজন পড়ুয়ার আত্মবিশ্বাস এবং পড়াশোনার উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। রায়ানের গল্পে সেই প্রভাবই এবার স্পষ্ট হয়েছে। ফলে ‘পরিণীতা’র এই কলেজ ট্র্যাক শুধু রায়ানকে ঘিরে নতুন মোড় তৈরি করেছে তা নয়, র্যাগিং নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
