জি বাংলায় খুব শিগগিরই শুরু হতে চলেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas) আর সেই ধারাবাহিকের মাধ্যমেই বেশ কিছুদিন পর আবার ছোটপর্দায় ফিরছেন অভিনেত্রী ‘দেবাদৃতা বসু’ (Debadrita Basu)। এইবার তিনি পল্লবী নামের চরিত্রে অভিনয় করবেন। গল্পের কেন্দ্রে থাকা এই চরিত্রটি একদিকে যেমন নরম মনের, তেমনই ভীষণ সংবেদনশীল। নিজের ব্যক্তিগত স্বপ্ন আর পরিবারের প্রত্যাশার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক সাধারণ মেয়ের জীবনই এখানে উঠে আসবে। সংসার করার ইচ্ছে, ভালোবাসার আশার পাশাপাশি বাবা-মায়ের বড় স্বপ্নের টানাপোড়েনও পল্লবীর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলবে।
আর গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই চরিত্রের নানান স্তর ধীরে ধীরে সামনে আসবে। এই প্রসঙ্গে দেবাদৃতা জানান, এই চরিত্রটির প্রতি আলাদা করে যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, কারণ পল্লবী এমন এক মেয়ে যার আবেগ খুব সহজেই আঘাত পেতে পারে। বাস্তব জীবনের বহু মেয়ের সঙ্গেই এই চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যাবে বলেই তাঁর মনে হয়েছে। তাই অভিনয়ের সময় চরিত্রটিকে খুব মন দিয়ে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। দর্শকেরাও এই চরিত্রের সঙ্গে নিজেদের জীবনের অনেকটা মিল খুঁজে পাবেন, এই বিশ্বাস থেকেই তিনি কাজটা করছেন।
প্রসঙ্গত, এই ধারাবাহিকের অন্যতম বড় আকর্ষণ হল শক্তিশালী শিল্পীদের উপস্থিতি। পল্লবীর বাবা-মায়ের ভূমিকায় দেখা যাবে দেবশঙ্কর হালদার আর সোহিনী সেনগুপ্তকে। তাঁদের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা দেবাদৃতার কাছে বিশেষ আনন্দের। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের কাজ তিনি অনুসরণ করেছেন। সেটে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কখনও মনে হয় না কে সিনিয়র আর কে জুনিয়র, সবাই মিলে খুব স্বাভাবিকভাবে কাজ করার একটা পরিবেশ তৈরি হয়।
বিশেষ করে দেবশঙ্করের সঙ্গে আগে থেকেই কাজ করার ইচ্ছে ছিল তাঁর, কারণ পরিবারে অন্য সদস্যরা তাঁর সঙ্গে কাজ করলেও তিনি এতদিন সেই সুযোগ পাননি। এদিকে ধারাবাহিকে দেবাদৃতার বিপরীতে থাকবেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, যাঁকেও অনেকদিন পর টেলিভিশনের ধারাবাহিকে দেখা যাবে। তাঁর মতো অভিজ্ঞ অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে পেরে দেবাদৃতা স্বাভাবিকভাবেই খুশি। শুটিং ফ্লোরে পরমব্রতের সহায়ক মনোভাব এবং স্বাভাবিক আচরণ নতুন কাজের সময় যে দ্বিধা তৈরি হয়, তা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শুরুর কষ্টের দিনগুলো আজও ভোলেননি! সফল অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি স্বপ্নকেও দিয়েছেন রূপ! মেয়েদের আত্মবিশ্বাসকে সাজাবে প্রান্তিকা দাসের Margot L’Ane! ঠিকানা কোথায়?
ফলে একসঙ্গে সময়টা খুব স্বচ্ছন্দভাবেই কাটছে বলে মনে করছেন তিনি। তবে, অভিনয়ের পাশাপাশি টেলিভিশন শেষ কথা বলে টিআরপি। একটি ধারাবাহিক চলবে কি চলবে না, তার অনেকটাই নির্ভর করে দর্শকের প্রতিক্রিয়া ও রেটিংয়ের উপর। দেবাদৃতার মতে, এই চাপটা আসলে খারাপ নয়। প্রতিযোগিতা থাকলে কাজের মান উন্নত করার একটা তাগিদ থাকে। অনেক সময় দেখা যায় কিছু গল্প খুব অল্পদিনেই শেষ হয়ে যায়, আবার কিছু দীর্ঘদিন ধরে চলে। এই অনিশ্চয়তাকে তিনি নতুন কিছু বলে মনে করেন না। বরং এটাকেই স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে দেখেন, যেখানে প্রতিটি নতুন গল্পের সঙ্গে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
