পথের পাঁচালীর মতো কালজয়ী ছবির প্রযোজক ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সেই ইতিহাসের ৭০ বছর পর আবার চলচ্চিত্র প্রযোজনায় ফিরল রাজ্য। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রযোজনায় মুক্তি পেয়েছে ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’। তবে মুক্তির পর থেকেই এই ছবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে সরকারি অর্থে নির্মিত এই ছবি আদৌ সিনেমা না কি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রচারমূলক ডকুমেন্টারি, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। ছবিতে রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের পাশাপাশি শাসক দলের প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগ আরও ঘনীভূত করেছে বিতর্ককে।
১৯৫৫ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত পথের পাঁচালী বিশ্ব দরবারে বাংলা সিনেমাকে পরিচিত করিয়েছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিধানচন্দ্র রায়। সাত দশক পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আবার সরকারি প্রযোজনায় ছবি তৈরি হলেও প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’কে অনেকেই পূর্ণদৈর্ঘ্যের সিনেমার বদলে একটি তথ্যচিত্র হিসেবেই দেখছেন, যেখানে গল্পের আড়ালে তুলে ধরা হয়েছে সরকারি প্রকল্পের সাফল্য।
৫৮ মিনিটের এই প্রযোজনায় লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্য সাথী, রূপশ্রী, বাংলার বাড়ির মতো প্রকল্পকে গল্পের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। এক বিধবা নারীর জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেখানো হয় কীভাবে সরকারি সাহায্যে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। ছবিতে প্রায় প্রতিটি সমস্যার সমাধান সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজেই হয়ে যায়, যা অনেক দর্শকের কাছে বাস্তবতার চেয়ে প্রচারের রং বেশি বলে মনে হয়েছে।
ছবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রতীকী চরিত্রও রয়েছে, যাকে নেতিবাচক রূপে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে ছবির শেষ অংশে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকযুক্ত শাড়ির দৃশ্য এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এই প্রযোজনা কার্যত শাসক দলের প্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, যা ভোটের আগে প্রশ্নের মুখে ফেলছে প্রশাসনকে।
আরও পড়ুনঃ সরস্বতী পুজোয় ছেলেবেলার স্মৃতিতে ডুব দিলেন অপরাজিতা আঢ্য! ‘সেই সোনালী উঠোন…’ নস্টালজিয়ায় ভরে উঠল সমাজমাধ্যম
তবে রাজ্যের বক্তব্য আলাদা। তাদের দাবি, ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’ একটি সমাজভিত্তিক ছবি, যা বাংলার নারীদের লড়াই ও আত্মসম্মানের গল্প বলে। উন্নয়নকে কেবল পরিকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনের পরিবর্তনের দিকটি তুলে ধরাই এই ছবির উদ্দেশ্য। তা সত্ত্বেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, উন্নয়নের গল্প আর রাজনৈতিক বার্তার সীমারেখা কোথায় টানা উচিত, সেই উত্তর খুঁজতেই এখন মুখিয়ে রাজনৈতিক মহল।
