জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে অন্ধকার! সোশ্যাল মিডিয়ায় সবটাই কী তবে ফেক? ইনফ্লুয়েন্সার সায়নী চক্রবর্তীর রহস্যমৃ’ত্যু ঘিরে প্রশ্নের ঝড় নেটপাড়ায়

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন যাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি লাখো মানুষের মন ভালো করে দিত, সেই সায়নী চক্রবর্তী আর নেই এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ নেটদুনিয়া। ফেসবুকে তাঁর প্রিয় পোষ্য গরু সুন্দরীকে নিয়ে তৈরি করা ভিডিও ছিল দর্শকদের কাছে এক আলাদা আকর্ষণ। হাসিখুশি মুখ, সরল জীবনযাপন আর প্রাণীদের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা সায়নীকে খুব অল্প সময়েই জনপ্রিয় করে তুলেছিল। কিন্তু সেই উজ্জ্বল মুখের আড়ালে যে এমন অন্ধকার লুকিয়ে ছিল, তা কেউ বুঝতেই পারেননি।

মৃত্যুর মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা আগেও নিজের পেজে নতুন ভিডিও আপলোড করেছিলেন সায়নী। সেখানে আগের মতোই দেখা গিয়েছে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপন আর প্রিয় পোষ্যদের সঙ্গে কাটানো সময়। এই হঠাৎ পরিবর্তনই এখন আরও বেশি করে প্রশ্ন তুলছে। কী এমন ঘটল, যে এক প্রাণবন্ত তরুণী এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন, তা নিয়ে দিশেহারা তাঁর অনুরাগীরা। পরিবার থেকেও এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সায়নী। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সদ্য আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন তিনি এবং সেই সাফল্যের আনন্দও ভাগ করে নিয়েছিলেন সকলের সঙ্গে। তাই জীবনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর এই পরিণতি আরও বেশি করে ভাবিয়ে তুলছে সকলকে।

ত্রিবেণীর বাসিন্দা সায়নী এবং তাঁর মা মলি চক্রবর্তীর যুগল উপস্থিতি ছিল তাঁদের ভ্লগের অন্যতম আকর্ষণ। মা মেয়ের সহজ সম্পর্ক, পোষ্যদের সঙ্গে মধুর মুহূর্ত আর দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট সুখ ছিল তাঁদের কনটেন্টের মূল শক্তি। দর্শকেরা তাঁদের ভিডিওর অপেক্ষায় থাকতেন এবং ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতেন। সেই আনন্দঘন মুহূর্তগুলো যে এত দ্রুত শোকের আবহে বদলে যাবে, তা কেউ ভাবেননি।

সম্প্রতি নৈহাটির বড়মার মন্দিরে ঘটে যাওয়া একটি বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেখানে ছবি তোলা নিয়ে বচসার জেরে হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন সায়নী এবং তাঁর মা। সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর এই রহস্যমৃত্যু আরও গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সত্য সামনে আসার অপেক্ষায় সকলেই।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page