জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

সময় হার মানে প্রেমের কাছে! বারান্দা থেকে শুরু, আজ তিন দশকের পথচলায় আরও উজ্জ্বল সৌরভ-ডোনা! ২৯ বছরের বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের মুহূর্ত ভাগ করে, শোনালেন অজানা গল্প!

ভালোবাসার পথচলায় দেখতে দেখতে কেটে গেল উনত্রিশ বছর। রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারি নিজের জীবনের এই বিশেষ দিনটি একেবারে ঘরোয়া আবহেই উদযাপন করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। বাড়ির মানুষদের নিয়ে ছোট্ট অথচ উষ্ণ আয়োজনেই ধরা দিল তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা। ডোনাকে দেখা গেল প্রিন্টেড সালোয়ার ও সাদা ওড়নায় স্বাভাবিক সৌন্দর্যে, আর সৌরভ ছিলেন নীল টি শার্ট ও ট্রাউজারে স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে। দূর লন্ডন থেকে মেয়েও এসেছে বাবামায়ের আনন্দে শরিক হতে। পরিবার আর ভালোবাসায় মোড়া এই দিনটি যেন আরও একবার প্রমাণ করল, সময় যতই পেরোক, তাঁদের সম্পর্কের উজ্জ্বলতা কমেনি একটুও।

এই বিশেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন সৌরভের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী অর্পিতা। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা মা নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও ছেলেবৌমার সুখের দিনে সামিল হলেন, যা মুহূর্তটিকে আরও আবেগঘন করে তোলে। কেক কাটার সময় দেখা গেল, একে অপরকে কেক খাইয়ে দিচ্ছেন সৌরভ ও ডোনা। সেই মিষ্টি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছিলেন তাঁদের একমাত্র কন্যা সানা। পরে সানা নিজেও মাকে কেক খাইয়ে দেয়, আর স্নেহাশিস ও অর্পিতাও শুভেচ্ছা জানিয়ে কেক খাওয়ান দম্পতিকে। ছোট্ট আয়োজন হলেও সেখানে ছিল আন্তরিকতার ছোঁয়া, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ভরে ওঠে ভালোবাসার বার্তায়।

সৌরভ ও ডোনার প্রেমকাহিনি যেন রূপকথার মতোই আকর্ষণীয়। পাশাপাশি দুই বাড়ি হলেও প্রথমদিকে তেমন কথা হত না। ডোনা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বারান্দা থেকে তিনি দেখতেন পাশের বাড়ির এক ছেলেকে উঠোনে ক্রিকেট খেলতে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ভালো লাগার শুরু। বড় হতে হতে সেই বন্ধুত্ব প্রেমে বদলে যায়। কলেজ জীবনে পরিবারের চোখ এড়িয়ে দেখা করা, চুপিসারে সময় কাটানো, সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্কের ভিত গড়ে ওঠে দৃঢ় বিশ্বাসে। তবে পরিবারের অমত হতে পারে এই আশঙ্কায় তাঁরা চুপিসারে নিজেদের ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৯৬ সালের ১২ আগস্ট পরিবারের কাউকে না জানিয়ে আইনি বিয়ে সারেন সৌরভ ও ডোনা। বিয়ের পরপরই জাতীয় দলের হয়ে খেলতে শ্রীলঙ্কায় উড়ে যান সৌরভ। ভারত, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবোয়ের অংশগ্রহণে সিঙ্গার কাপে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু গোপন রাখা গেল না খবরটি। এক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় তাঁদের লুকিয়ে বিয়ের কথা। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হন সৌরভের বাবা চণ্ডীদাস গঙ্গোপাধ্যায়। ফোনে ছেলেকে প্রশ্ন করেন, আর সৌরভ শান্তভাবে জানান দেশে ফিরে সব ব্যাখ্যা দেবেন। পরে জানা যায়, ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের কাছ থেকেই সংবাদমাধ্যমে পৌঁছেছিল খবরটি।

অবশেষে দুই পরিবারই মেনে নেয় এই সম্পর্ক। ধুমধাম করে ১৯৯৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সামাজিক বিয়ের আয়োজন করা হয়। সেই পথ চলায় ২০০১ সালে তাঁদের জীবনে আসে কন্যা সানা, যিনি আজ নিজের পড়াশোনার জন্য বিদেশে থাকলেও বাবা মায়ের বিশেষ দিনে ছুটে আসেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের এই সম্পর্ক প্রমাণ করে, প্রেম শুধু আবেগ নয়, তা বিশ্বাস, সাহস ও পারস্পরিক সম্মানের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এক শক্ত বন্ধন। সৌরভ ও ডোনার বিবাহবার্ষিকীর এই মুহূর্ত যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, সত্যিকারের ভালোবাসা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে ওঠে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page