জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“শুভাকাঙ্ক্ষী-অশুভাকাঙ্ক্ষীরা আর মাসের বিচার করে লাভ নেই!” “আট মাসে না নয় মাসে, বৈধ না অবৈধ প্রমাণ আমি দিচ্ছি!”— হাজারো বিতর্কের পর, এতদিন বাদে সন্তানের বৈধতা প্রমাণ করলেন শ্রীময়ী! ‘কৃষভি’র বাবা কি কাঞ্চন, কী বললেন অভিনেত্রী?

বিধায়ক-অভিনেতা ‘কাঞ্চন মল্লিক’ (Kanchan Mullick) এবং তাঁর বর্তমান স্ত্রী অভিনেত্রী ‘শ্রীময়ী চট্টরাজ’কে (Sreemoyee Chattoraj) বিয়ের দিন থেকেই পড়তে হয়েছে নানান কটাক্ষের মুখে। তাঁদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তকে ঘিরেও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক আর সমালোচনার ঝড়। কারণ, বিয়ের সাড়ে আট মাসের মধ্যেই কন্যা সন্তান ‘কৃষভি’র (Krishvi) জন্ম দেন শ্রীময়ী। তখনই শুরু হয় নানা প্রশ্ন— তিনি কি বিয়ের আগেই অন্য কারোর দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন? চারপাশের এই সব কটুক্তি তাঁদের ব্যক্তিগত সুখকে একসময় ছাপিয়ে গেছিল। এবার সন্তানের বৈধতা নিয়ে প্রমাণ দিলেন দম্পতি!

গত বছরের কালীপুজোর পর জন্ম নেয় তাঁদের মেয়ে। তার আগে দুর্গাপুজোয় ঠাকুর দেখা থেকে শুরু করে ভূত চতুর্দশীর দিন পর্যন্ত আনন্দ করেছেন শ্রীময়ী। এমনকি সন্তানের জন্মের সময় শারীরিক সমস্যাও দেখা দিয়েছিল তাঁর, জন্ডিসে ভুগেছিলেন তিনি। তবে সব কষ্ট ও জটিলতার মধ্য দিয়েও যখন মেয়েকে প্রথম কোলে নেন, তখনই যেন সব ব্যথা দূর হয়ে যায় বলে জানান তিনি। কাঞ্চনের কথায়, এত দুঃখ-যন্ত্রণা সত্ত্বেও তাঁদের মেয়ে আজ বাবা-মায়ের আনন্দের কারণ।

তবে সেই সময় শ্রীময়ী জানিয়েছিলেন, সন্তানের বাবা অন্য বা বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা– এমন সব অভিযোগের কোনও ভিত্তিই নেই। তাঁর দাবি ছিল, দোল পূর্ণিমার পরের দিনই তিনি জানতে পারেন যে, মা হতে চলেছেন। বিয়ের পরপরই সুখবর আসায় তিনি নিজেও ঈশ্বরের আশীর্বাদ হিসেবে দেখেছিলেন বিষয়টিকে। এমনকি বিয়ের পরই কাঞ্চনকে মা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি, এবং প্রথম মাসেই সেই ইচ্ছে পূর্ণ হয়। তাই সন্তানকে ঘিরে অযথা সন্দেহ বা সমালোচনা অযৌক্তিক বলেই মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি গণেশ চতুর্থীর দিন এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পুরোনো সেই প্রসঙ্গ আবারও সামনে এসেছে। মেয়ের মুখ কার মতো হয়েছে সেই প্রশ্নে শ্রীময়ী হাসিমুখেই উত্তর দেন, তাঁর মেয়ে নাকি বাবার একেবারে জেরক্স কপি। তিনি আরও জানান, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ই কাঞ্চনকে বলেছিলেন যে মেয়ের কোমর থেকে পায়ের গড়ন বাবার মতো হলে ভবিষ্যতে নিশ্চিন্তে হাই হিল পরতে পারবে। এদিন শ্রীময়ীর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাস ও অভিমান দুটোই।

তিনি জানান, তাঁর মেয়ের মুখশ্রী এমনই যে, বৈধ না অবৈধ—এই প্রশ্ন তোলার আর কোনও জায়গাই নেই। কারণ সন্তানের চেহারাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, সে কাঞ্চনেরই সন্তান। শ্রীময়ীর কথায়, “আজীবন আর বলতে হবে না বৈধতা নিয়ে, এই সন্তান বাবার পরিচয় নিয়েই এসেছে। তাই শুভাকাঙ্ক্ষী বা অশুভাকাঙ্ক্ষী, কেউই আর মাস গুনে হিসেব-নিকেশ করতে পারবে না।” এই কথা যেন তাঁর দীর্ঘদিনের নীরব ক্ষোভেরই জোরালো উত্তর। কাঞ্চনও মেয়েকে ঘিরে নিজের আনন্দ ও আবেগ ভাগ করে নেন।

তাঁর কথায়, ছেলে-মেয়ে সমান হলেও তিনি মনে করেন, মেয়ে সত্যিই যেন দেবীর রূপ। মজার ছলে আরও বলেন, মেয়ের কানেও নাকি তাঁর মতো মিল আছে। তিনি চান মেয়ের চেহারায় শ্রীময়ীর হাসি ও চোখের ছাপ থাকুক, তবে মুখে থাকুক বাবার ছাপ। তাদের নিয়ে বিতর্ক যতই হোক না কেন, পরিবারের এই ছোট সদস্যকে ঘিরে আর কোনও বিতর্ক নয়, শুধু আনন্দ ও ভালোবাসাই ভাগ করে নিতে চান তাঁরা। দম্পতির এই কথা প্রকাশ্যে আসতেই সমাজ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

Piya Chanda