রাজ্য জুড়ে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী ঘিরে যখন নানা অনুষ্ঠান, প্রভাতফেরী ও শোভাযাত্রায় মুখর পরিবেশ, ঠিক সেই আবহেই অতীতের এক গভীর স্মৃতিতে ফিরে গেলেন অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়। বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক আলোকিত এক ইন্দুতে স্বামী বিবেকানন্দের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি এক সময় দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। সেই চরিত্র আজও তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।
সাহেবের কথায়, ওই সময় তিনি বয়সে তরুণ ছিলেন এবং অভিনয়ের আত্মবিশ্বাসও পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তবু চরিত্রটিকে আত্মস্থ করতে তিনি স্বামীজী সম্পর্কে বহু বই পড়েন, মন দিয়ে ভাবেন তাঁর দর্শন ও জীবনবোধ নিয়ে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই এক অদ্ভুত শক্তি ও আত্মবিশ্বাস অনুভব করতেন তিনি। কোথা থেকে সেই জোর আসত, তার ব্যাখ্যা আজও তাঁর জানা নেই। তবে স্বামী বিবেকানন্দের চরিত্র তাঁর শিল্পীসত্তাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
এরপর বহু বছর পরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের সেই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসে। সিডনি অপেরা হাউজে ইংরেজি নাটকে স্বামী বিবেকানন্দের ভূমিকায় অভিনয় করেন সাহেব। পৃথিবীর নানা দেশের শিল্পীরা একসঙ্গে সেই প্রযোজনায় যুক্ত ছিলেন। নানা সংস্কৃতি ও ভাষার শিল্পীদের মাঝে থেকেও তিনি জেদ ধরে রেখেছিলেন যে শ্যামাসঙ্গীত বাংলাতেই গাইবেন। সেই আবদার মেনেই মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি।
এই নাটকের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে সাহেবের জীবনের এক অলৌকিক অভিজ্ঞতা। অভিনয়ের ঠিক আগে খবর আসে, ক্যানসারে আক্রান্ত তাঁর বাবার শারীরিক অবস্থা আচমকাই খারাপ হয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। চোখের জল আর উদ্বেগে অভিনয় করা অসম্ভব মনে হচ্ছিল। তখন সহ অভিনেতারা তাঁকে সাহস দেন, বিশ্বাস রাখতে বলেন পরমহংস রামকৃষ্ণের উপর। সেই বিশ্বাস নিয়েই মঞ্চে ওঠেন সাহেব।
আরও পড়ুনঃ জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা, এবার ঠাকুমা হলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়! বছরের শুরুতেই নাতনি লাভ, দেবের সহ-অভিনেত্রীর!
নাটক শেষ হওয়ার পর দর্শকের দাঁড়িয়ে হাততালির মাঝেই আসে স্বস্তির খবর। বাবার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। পরে দেশে ফিরে আরও কিছুদিন বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। আজও সাহেব বিশ্বাস করেন, স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা তাঁকে ভয়কে সামনে দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করতে শিখিয়েছে। সেই পথেই চলার চেষ্টা করেন তিনি প্রতিদিন।
