জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“সেরা খলনায়িকা হতে পারে, এখনও কিভাবে নিশাকে সমর্থন করে লোকে?” “পরিস্থিতি নয়, নিশা শুরু থেকেই এমন!” আগে সহানুভূতি ছিল, এখন একেবারেই নেই! নিশার একগুঁয়েমি নিয়ে ক্ষুব্ধ ‘জোয়ার ভাঁটা’র দর্শক!

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) যে ক্রমেই উত্তেজনার শীর্ষে পৌঁছেছে, তার অন্যতম কারণ হল নিশা চরিত্রটি। দর্শকরা যতই গল্পের নতুন মোড় দেখতে পাচ্ছেন, ততই তারা নিশার প্রতি ক্ষুব্ধ ও হতাশ! কোথাও না কোথাও, তাঁর আচরণ এবং চিন্তাধারা মানুষকে গভীর ভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। প্রথমে যেমন মনে হয়েছিল, নিশা শুধুমাত্র তার বাবা এবং দাদার মৃ’ত্যুর কারণে কষ্টে ভুগছে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে, তার পেছনে অনেক গোপন পরিকল্পনা এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি রয়েছে! এই পরিবর্তন দর্শকদের কাছে এক ধাক্কা।

ঋষির প্রতি নিশার অনবদ্য ঘৃ’ণার কারণ যতটা তার বাবা বা দাদার মৃ’ত্যুর সাথে যুক্ত, ততটাই তার নিজের অজান্তে তৈরি হওয়া ভুল ধারণা। যতই উজি চেষ্টা করছে, সে বুঝতে পারছে যে ঋষি নির্দোষ ছিল এবং শুধুমাত্র মিথ্যা বিশ্বাসের কারণে ক্ষতি হচ্ছে বারবার। কিন্তু নিশা? তার মানসিকতা একেবারে ভিন্ন। সে প্রতিশোধের নেশায় এতটাই অন্ধ যে, তাঁর সামনে কোনও সঠিক বা ভুলের পরিসীমা নেই। গরীবদের জন্য নিজের ‘ভালবাসা’ প্রকাশের নামে, প্রায়শই নিশা নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে উজির সাহায্য নেয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও গরিবকে সাহায্য করতে দেখা যায়নি।

সে ভাবে না যে, তার এই কাজগুলো কতটা নীতিহীন। একদিকে তাকে দেখে মনে হয়, সে ইতিবাচক কোনও চরিত্র, কিন্তু আসলে সে কেবল নিজের ক্ষতির কারণ হিসেবে অন্য মানুষকে দায়ি করে শান্তি দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে, এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে আসে, নিশার এই আচরণের পেছনে কি শুধুমাত্র দাদার মৃ’ত্যু বা বাবার সঙ্গে প্রতারণার ক্ষোভ? নাকি তার মধ্যে অন্য কোনও লুকানো উদ্দেশ্য রয়েছে? যেমনটা দর্শকরা মন্তব্য করছেন, “নিশা কীভাবে এখনও পজিটিভ হিসেবে দেখছেন সবাই?” এমন অনেক কিছুই আছে যা নিশার চরিত্রকে বোধগম্য করে তুলতে ব্যর্থ।

একদিকে তাকে দেখলে মনে হয়, অসহায় আর অন্যদিকে তার কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, সে কখনোই নিজের ভুল বুঝতে পারবে না। বিশেষ করে, ঋষি বোনের স্বামী জেনেও, তার কোনও ক্ষমা বা শর্তবিহীন সহানুভূতির জায়গা কোথাও নেই। এছাড়া, উজি চেষ্টা করছে সঠিক পথে থাকতে, নিশা সে পথের বিপরীতে চলে যাচ্ছে। নিজের স্বার্থে যা করতে চায়, সেটাই তার একমাত্র লক্ষ্য। আর এই আত্মকেন্দ্রিকতার ফলে, তার কাজকর্মে কোনও সহানুভূতি দেখা যাচ্ছে না। বরং, নিশার কোনও কার্যক্রমই শেষ পর্যন্ত নিজেকে নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করছে।

যা একদিকে যেমন তার চরিত্রকে নেতিবাচক স্তরে নিয়ে যাচ্ছে, তেমনি দর্শকদের মধ্যে তার প্রতি ঘৃণা আরও বাড়াচ্ছে। এমনকি, তার সহানুভূতি থেকে কোনও কার্যকর পরিবর্তন আশা করাও এখন বাতুলতা মনে হচ্ছে। “এভাবে চলতে থাকলে নিশা বেস্ট ভিলেন আওয়ার্ডের সেরা দাবিদার,” বলছেন দর্শকরা। নিশার চরিত্রের ক্রমবর্ধমান নেতিবাচকতা অবশেষে তার প্রতি দর্শকদের সমর্থন নষ্ট করে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে, নিশার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা হয়তো কেবল তারই জানা। কিন্তু দর্শকদের বিশ্বাসে চিড় ধরতে শুরু হয়েছে এবং এর থেকে সহজে বের হয়ে আসার পথ এখনও তার সামনে নেই।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page