বাংলা ইন্ডাস্ট্রির কঠিন সময়ে যিনি নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন, সেই তাপস পালের স্মৃতি আজও অমলিন তাঁর পরিবারের মনে। ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন জনপ্রিয় অভিনেতা। স্বামীর চলে যাওয়ার পর থেকে নানা অনুভূতি, স্মৃতি আর শক্তির কথা ভাগ করে নেন নন্দিনী পাল। এবার তাঁদের একচল্লিশ বছরের বিবাহবার্ষিকীতে আবেগঘন বার্তায় আবারও হৃদয় ছুঁলেন তিনি।
একঝাঁক ছবি শেয়ার করে নন্দিনী লেখেন, শারীরিক ভাবে পাশে না থাকলেও তিনি আজও নিজেকে তাপস পালের স্ত্রী হিসেবেই ভাবেন। সমাজ তাঁকে বিধবা বলতে পারে, কিন্তু তাঁর কাছে সম্পর্কের পরিচয় বদলায়নি। তিনি এখনও লোহা, পলা আর বিবাহিত নারীর সব চিহ্ন বিশ্বাস আর সম্মানের সঙ্গে ধারণ করেন। তাঁর মতে, ভালোবাসা আর বন্ধন মৃত্যুতে শেষ হয় না।
সিঁদুর পরা নিয়ে সমাজে নানা ট্যাবু থাকলেও নন্দিনীর বক্তব্য স্পষ্ট। তিনি বলেন, যদি সিঁদুর স্বামীর মঙ্গল কামনার প্রতীক হয়, তবে তা পরার অধিকার তাঁর সম্পূর্ণ আছে। আগে খুব বেশি না পরলেও এখন ইচ্ছে হলেই তিনি সিঁদুর পরেন। কারণ আজীবন তিনি শুধু তাপস পালেরই স্ত্রী এবং তাঁর মঙ্গলই কামনা করবেন।
জীবনের নানা কঠিন মুহূর্তে স্বামীর অভাব তাঁকে কষ্ট দেয়, তবু মনে মনে তাঁর উপস্থিতিই নন্দিনীকে শক্তি জোগায়। তিনি বিশ্বাস করেন, তাপস আজও তাঁর রক্ষাকর্তা ও অভিভাবক। পৃথিবীর সামনে দাঁড়ানোর সাহস, আশীর্বাদ আর ভালোবাসা তিনি সেখান থেকেই পান। এই বিশ্বাসই তাঁকে এগিয়ে চলার শক্তি দেয়।
আরও পড়ুনঃ “কাজ করতে দিন ছেলেটাকে, শান্তিতে বাঁচতে দিন এবার!” অনির্বাণ ভট্টাচার্যের হয়ে প্রকাশ্যে আবেদন দেবের, ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং ফেডারেশনের কাছে! এবার কি নড়েচড়ে বসেছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি?
নন্দিনী আরও জানান, এক সময় তাপস পাল বাড়িতে দুর্গাপুজোর আয়োজন করতেন। আবার সেই রীতি ফিরিয়ে আনতে চান তিনি। তাঁর মতে, স্বামীকে হারালেও কোনও নারীর উৎসবে অংশ নেওয়ার অধিকার শেষ হয় না। দেবীবরণ, সিঁদুরখেলা কিংবা শুভ কাজে অংশ নেওয়াই তাঁদের প্রাপ্য। ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়ে আজও তাঁর পরিচয় অটুট।
