পুজোর প্রচারের ব্যস্ততা কাটিয়ে এখন কাকাবাবু ছবির প্রচার নিয়ে বেশ স্বস্তিতে আছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। স্কুলে গিয়ে শিশুদের উচ্ছ্বাস দেখে তাঁর চোখে জল চলে আসে। হাজার হাজার বাচ্চা একসঙ্গে সংলাপ বলছে, সেই ভালোবাসাকে তিনি একেবারে খাঁটি বলে মনে করেন। তাঁর বিশ্বাস, বহু পরিবারে কাকাবাবু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পড়া হয়েছে, তাই নতুন প্রজন্মও ছবির সঙ্গে সহজেই যুক্ত হবে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনশোর বেশি ছবি করা এই অভিনেতার কাছে সাফল্য মানেই নিরন্তর চাপ। তিনি বলেন, একজন অভিনেতা একা তৈরি হয় না, তার পেছনে থাকে বহু মানুষের অবদান। যখন একজন তারকা ব্র্যান্ডে পরিণত হয়, তখন সেই ব্র্যান্ড টিকিয়ে রাখার লড়াই শুরু হয়। ঘুমের মধ্যেও সেই টেনশন কাজ করে। নিজেকে নতুন করে তৈরি করতে পারাই আসল চ্যালেঞ্জ, শুধু হিট ফ্লপ নয়।
ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্ট প্রসেনজিৎ। তিনি চান মিশুক নিজের লড়াই নিজেই করুক। কোনও লঞ্চ নয়, কোনও বিশেষ সুবিধা নয়। মুম্বইয়ে ক্লাস, অডিশনের লাইন, সবটাই নিজের চেষ্টায়। তিনি ছেলেকে বুঝিয়েছেন, শক্ত ভিত তৈরি করাই সবচেয়ে জরুরি। বাবার পরিচয় নয়, নিজের কাজ দিয়েই জায়গা করে নিতে হবে।
নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে প্রসেনজিৎ জানান, কেরিয়ারের প্রথম পাঁচ বছর তাঁকে বাবার নামের ভার বয়ে বেড়াতে হয়েছে। চেহারার মিলের কারণে সবাই তাঁকে বিশ্বজিতের সঙ্গে তুলনা করত। সেই ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের পরিচয় গড়তে সময় লেগেছে। তাই ছেলেকেও তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত করছেন, তুলনা আসবেই, সেটাকে সামলাতে হবে।
আরও পড়ুনঃ হাম্পির বুকে লুকিয়ে থাকা হীরের সন্ধানে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়! নতুন অভিযানে কাকাবাবুর! লুকিয়ে আছে কী বিপদ?
লিগ্যাসি শব্দে তিনি বিশ্বাসী নন। তাঁর মতে, প্রতিদিন নতুন করে জন্ম নিতে হয় শিল্পীর। আজ কাজ না করলে অতীতের সাফল্যের কোনও মূল্য নেই। তিনি চান ইন্ডাস্ট্রিতে সুস্থ পরিবেশ তৈরি হোক, যেখানে নতুন প্রজন্ম আরও এগিয়ে যেতে পারবে। নিজের কাছে তিনি সৎ থাকতে চান, কারণ সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
