টলিউডে এমন অনেক মুখ আছে, যাঁদের পর্দার জীবন ঝলমলে হলেও ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে থাকে নীরবতা আর প্রশ্ন। পায়েল সরকার ঠিক তেমনই একজন। বয়স পেরিয়েছে ৪২, ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়েছেন প্রায় দু’দশক সময়, তবু আজও কেন তিনি একা—এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই ফিরে আসে বিনোদন জগতে। কখনও তাঁর অভিনয়, কখনও অতীত সম্পর্ক, আবার কখনও তাঁর নিজের বলা কিছু কথা নতুন করে আলোচনায় এনে দেয় অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনকে। সম্প্রতি আবারও সেই পুরনো প্রশ্ন ঘিরেই বাড়ছে কৌতূহল।
পায়েলের অভিনয় জীবন শুরু হয় ২০০৪ সালে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেন বড় পর্দায়। ‘আই লাভ ইউ’, ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’-র মতো জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়। শুধু বাংলা নয়, হিন্দি টেলিভিশনেও কাজ করেছেন তিনি। এক সময় দা অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস মুভিতে তাঁর বোল্ড চরিত্র নিয়ে চর্চা হয়েছিল বিস্তর। যদিও বর্তমানে তাঁকে আগের মতো নিয়মিত ছবিতে দেখা যায় না, তবু তাঁর উপস্থিতি আজও দর্শকের মনে আলাদা গুরুত্ব রাখে।
তাঁর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় অবশ্যই রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রেম। একসময় টলিউডে এই সম্পর্ক ছিল ওপেন সিক্রেট। তবে সেই ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায়নি। পরবর্তীকালে জানা যায়, পায়েল নিজেই ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছিলেন—দু’জনের জীবনদর্শন আলাদা ছিল, ভাবনাচিন্তায় মিল না থাকায় এই সম্পর্ক এগোনো সম্ভব হয়নি। এরপর তাঁর জীবনে আরও সম্পর্ক এসেছে বলেও শোনা যায়, কিন্তু সেগুলিও স্থায়ী হয়নি।
এই সব জল্পনার মাঝেই ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে একবার সৌরভ গাঙ্গুলীর প্রশ্ন নতুন করে আলো ফেলেছিল পায়েলের সিদ্ধান্তের উপর। প্রেম ও বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিনেত্রী অকপটে বলেন, নিজের জন্য ভালো ছেলে খুঁজে পাওয়া যতটা সহজ, মা-বাবার মনের মতো ছেলে খুঁজে পাওয়া ততটাই কঠিন। সৌরভ গাঙ্গুলী তখন সরাসরি প্রশ্ন করেন—তাহলে কি মা-বাবার কারণেই তিনি এখনও সিঙ্গেল? পায়েল কোনও ঘুরপথে না গিয়ে স্পষ্টভাবে সম্মতি দেন—হ্যাঁ।
আরও পড়ুনঃ পরের বউয়ের সঙ্গে “অ’বৈধ সম্পর্ক” ! বন্ধুত্ব নিয়ে নোংরা কটাক্ষ! ক্ষুব্ধ সায়ক চক্রবর্তী! দেবলীনাকে ঘিরে ট্রোলের কড়া জবাব দিলেন অভিনেতা!
আবার অনেকের মতে, অতীতের সেই অসমাপ্ত প্রেম আজও তাঁকে ছেড়ে যায়নি। কেউ বলেন, পায়েল আজও পুরনো সম্পর্ক ভুলতে পারেননি বলেই একা রয়েছেন। আবার কারও মতে, পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়াটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত। সত্যিটা যাই হোক, পায়েল সরকার নিজের শর্তে, নিজের সিদ্ধান্তে জীবন বেছে নিয়েছেন—এটাই হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
