বিয়ের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই হালকা দুশ্চিন্তা গ্রাস করছে অভিনেতা সায়ন বসুকে। বর্তমানে জি বাংলার ধারাবাহিক শুভ বিবাহতে খলনায়কের ভূমিকায় দর্শকের নজর কাড়লেও বাস্তব জীবনে তিনি এখন পুরোদস্তুর বরযাত্রী হওয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সায়ন জানান, গত বছরই তিনি ও রিনি মুখোপাধ্যায় আংটি বদল করে বাগদান সেরেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই তাঁরা চার হাত এক করতে চলেছেন। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও জীবনের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে যে উত্তেজনা ও আবেগ কাজ করছে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
এর আগেই এক সাক্ষাৎকারে সায়ন জানিয়েছিলেন, তাঁদের বিয়ে হবে একেবারে বাঙালি মতে। ঝাঁ চকচকে মেহেন্দি বা সঙ্গীত নয়, বরং ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়েই আয়োজন। বিয়ের সকালে থাকবে গায়েহলুদ, তার আগের রাতে আলতা নাইট। ইতিমধ্যেই আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের আইবুড়ো ভাতের নিমন্ত্রণ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে শুটিংয়ের চাপ এতটাই যে মন ভরে আইবুড়ো ভাত খাওয়ার সুযোগই পাচ্ছেন না অভিনেতা, এই আক্ষেপও লুকোননি তিনি।
যদিও সায়ন নিজে বিয়ে নিয়ে এখনই খুব বেশি কথা বলতে চাইছেন না, টেলিপাড়ায় তাঁর বিয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে চর্চা থামছে না। শোনা যাচ্ছে, প্রথমে কোন্নগরে এক বনেদি বাড়িতে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়া অনুষ্ঠান হবে। গায়েহলুদ থেকে সাতপাক সবটাই সেখানেই সম্পন্ন হবে। তার পর কলকাতায় বৈদিক মতে দ্বিতীয় প্রস্ত বিয়ে। প্রীতিভোজের আয়োজন রাখা হয়েছে দুদিন পরে, যাতে সবাই নিশ্চিন্তে উদযাপন করতে পারেন।
এই বিয়ের থিমও বেশ আকর্ষণীয়। সায়ন ও রিনির বিয়ের ভাবনায় উঠে আসছে রাজারাজড়ার আমেজ। প্রাচীনকালে রাজাদের বিয়ে যেভাবে হত, সেই ধাঁচেই মণ্ডপসজ্জা থেকে আয়োজন সব কিছু পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিয়ের দিনে সায়ন থাকবেন একেবারে বাঙালি সাজে, ধুতি পাঞ্জাবি ও জোড় পরে। তবে প্রীতিভোজের দিন তাঁকে রাজস্থানি পোশাকেও দেখা যেতে পারে, লম্বা শ্রাগের সঙ্গে চোস্ত পাজামা বা ট্রাউজারে।
আরও পড়ুনঃ ‘রাজ চক্রবর্তীর পর থমকে গিয়েছিল জীবন…’ ৪২ বছরে সিঙ্গেল! ঝলমলে কেরিয়ার, কিন্তু নিঃসঙ্গ ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখ খুললেন পায়েল সরকার! কেন এখনও বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি অভিনেত্রী? কোন অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন?
খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও কোনও খামতি রাখছেন না এই অভিনেতা। দুই পরিবার একসঙ্গে বর কনেকে আইবুড়ো ভাত খাওয়াবেন, মেনুতে থাকবে লুচি, ছোলার ডাল, লম্বা করে কাটা বেগুনভাজা, মাছ ও মাংসের সম্ভার। প্রীতিভোজে অতিথিদের জন্য বাঙালি ও মোগলাই খাবার একসঙ্গে পরিবেশন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে কাজের ব্যস্ততার মাঝেও জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনের জন্য জমিয়ে প্রস্তুতি চলছে সায়ন বসুর।
