শুরুতেই কড়া শর্ত যে রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন নয়, এমনকি ‘দেশু সেভেন’ নিয়েও নয়! একই প্রসঙ্গ বারবার শুনতে শুনতে ক্লান্ত পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। কিন্তু প্রেমদিবসে মুক্তি পাওয়া হোক কলরব ঘিরে আলোচনা থামেনি। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনে রাজ স্পষ্ট করে দিলেন তাঁর অবস্থান। তাঁর কথায় পরিচালক রাজ চক্রবর্তী আর বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী এক নন। ছবি বানানোর সময় তিনি রংহীন থাকতেই পছন্দ করেন। দর্শক যেন গল্পের ভেতর থেকেই নিজের সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেন সেটাই তাঁর লক্ষ্য।
শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় কিংবা পার্থ ভৌমিকের সঙ্গে বারবার কাজ করা প্রসঙ্গে রাজের বক্তব্য খুব সহজ। যাঁদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা হয়, তাঁদের সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি হয়। সেটাই কাজে সুবিধা দেয়। তিনি মজা করে বললেন, এঁরা তাঁর সচিন সহবাগ। তবে এই ছবিতে তারকার প্রয়োজন ছিল না বলেই নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হোক কলরব আদতে তারকা তৈরি করার ছবি। রাজ মনে করেন নতুনদের সুযোগ না দিলে ইন্ডাস্ট্রি ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যাবে।
রাজনীতি প্রসঙ্গে তাঁর মত স্পষ্ট। ছাত্র রাজনীতি প্রয়োজনীয় এবং সমাজ বদলের শক্তি এখান থেকেই আসে। তবে তিনি নিজে ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। অনেক পরে এই পথে এসেছেন। তাঁর মতে বাঙালির ডিএনএতেই রাজনীতি রয়েছে। আজকের প্রজন্মের আন্দোলন অনেকটাই সমাজমাধ্যমে সীমাবদ্ধ হলেও ব্যতিক্রমও আছে। পথে নেমে লড়াই করা মানুষ এখনও রয়েছেন।
আরজি কর আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে রাজের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। তিনি মনে করেন একই ঘটনা সবাই এক ভাবে দেখে না। তাই কোনও আন্দোলন সফল না ব্যর্থ তা এখনই বলা যায় না। হোক কলরব ছবির মাধ্যমে র্যাগিংয়ের মতো সামাজিক সমস্যার দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। স্কুল কলেজ থেকে পেশাজীবন সর্বত্র এই অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেই বিষয়টি তাঁকে ভাবিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ প্রেমের মরশুমে সাত পাকে ঘুরতে চলেছেন সায়ন বসু! বিয়ের আগে ফটোশ্যুটে ব্যাস্ত সায়ন-রিনি! কি কি হতে চলেছে এই বিয়েতে?
পরিচালক হিসেবে নিজেকে কোনও ছাঁচে বাঁধতে নারাজ রাজ। প্রেমের ছবি হোক বা প্রতিবাদের গল্প সবই করতে চান। এমন ছবি বানাতে চান যা বহু বছর পরেও আলোচনায় থাকবে। নতুন অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করে তিনি যেমন শিখেছেন তেমনই টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী। রাজের বিশ্বাস আজকের নতুনরাই আগামী দিনের ভরসা হয়ে উঠবে।
