জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আমি ‘ননভেজ’ খাই…কাল ছিল ‘গো-মাতা’ আর আজ গো-উৎপটাং!” “হাসি মুখে বলে ফেললো, মানে সেদিন পুরো ফুটেজ ছিল!” অলিপাবের বিতর্ক ঘিরে সায়কের অতীত মন্তব্য সামনে আসতেই, কটা’ক্ষে মুখর নেটপাড়া!

সমাজ মাধ্যমে গত কয়েক দিনের উত্তাপের কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটিমাত্র ভিডিও, যার সূত্র ধরে বহু পুরনো প্রশ্ন আবার নতুন করে সামনে এসেছে যে কনটেন্ট আর বাস্তবের সীমারেখা ঠিক কোথায়? পার্ক স্ট্রিটের পরিচিত রেস্তোরাঁ ‘অলিপাবে’ (Olypub) খাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে ভ্লগার ‘সায়ক চক্রবর্তী’ (Sayak Chakraborty) যে অভিযোগ তুলেছিলেন, তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনি একটা হিন্দু ব্রাহ্মণ বাড়ির ছেলেকে না জানিয়ে গো-মাতা খাইয়ে দিলেন?” এই একটি বাক্যই বিতর্ককে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।

খাবার সংক্রান্ত অভিযোগ ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে আসে ধর্মীয় অনুভূতি, ব্যক্তিগত পরিচয় আর ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ প্রকাশের ভঙ্গি! এই ঘটনার পরেই নেটদুনিয়া কার্যত দুই মেরুতে ভাগ হয়ে যায়। একাংশের প্রশ্ন, এত বছরের পুরনো ও পরিচিত একটি রেস্তোরাঁয় এমন ভুল আদৌ সম্ভব কি না। আবার অন্যদিকে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন, যে ব্যক্তি নিজেকে নির্দিষ্ট কিছু খাবার থেকে দূরে রাখেন বলে দাবি করেন, তিনি সেই খাবার খেয়ে ফেলেও কীভাবে বুঝতে পারলেন না, এই যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য?

এই দ্বিধা থেকেই ধীরে ধীরে “পরিকল্পিত কনটেন্ট” তত্ত্ব মাথাচাড়া দেয়। কেউ কেউ আবার আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এমন ভিডিও ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে বাহবা দিচ্ছে, যার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে। বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে যখন সায়কের অতীতের নানান ছবি, ভিডিও ও সাক্ষাৎকার নতুন করে ঘুরতে শুরু করে। বিশেষ করে একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে তাঁর নিজের কথাই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কী ধরনের খাবার তিনি পছন্দ করেন। উত্তরে সায়ক বলেছিলেন, “সব ধরনের নন-ভেজ।

এত নন-ভেজ খেয়েছি না! সব ধরনের মানে গ’রু, শু’য়োর ও সাপ বাদ দিয়ে। ওই উৎপটাং জিনিসগুলো বাদে, চিকেন খাই আর মাঝে মাঝে মটন।” এই বক্তব্য সামনে আসতেই অনেকের কাছেই সাম্প্রতিক ভিডিওর ক্ষোভ আর পুরনো সাক্ষাৎকারের স্বাভাবিক হাসিখুশি মন্তব্য, দুটোর মধ্যে ফারাক চোখে পড়েছে। এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষের স্রোত আরও জোরালো হয়েছে। কেউ লিখছেন, “আমি ব্রাহ্মণ কিন্তু সবধরনের ননভেজ খাই…কাল ছিল গো-মাতা আর আজ গো-উৎপটাং!” আবার কেউ সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন, “গরু হচ্ছে উৎপটাং!

এই কথা বলতেও একটুও দ্বিধা হলো না? হাসি মুখে বলে ফেললো, তার মানে সেদিন ব্রাহ্মণত্ব দেখানোটা পুরো ফুটেজ ছিল!” এই মন্তব্যগুলো যেন শুধু একজন ভ্লগারকে নয়, বরং সমাজ মাধ্যমে পরিচয় নির্মাণের পদ্ধতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে! সব মিলিয়ে এই ঘটনা আর শুধুমাত্র একটি খাবারের গল্পে সীমাবদ্ধ নেই। এটি দেখিয়ে দিল, ক্যামেরার সামনে বলা একটি কথাও কীভাবে অতীতের বক্তব্যের সঙ্গে তুলনায় চলে যায় আর দর্শক কীভাবে নিজের মতো করে তার মানে খুঁজে নেন। এখানে কারও পক্ষ নেওয়ার চেয়ে বড় প্রশ্ন অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিটি আবেগ, কি ঠিক সেই মুহূর্তের সত্য? নাকি দর্শকের মনোযোগ টানার জন্য সাজানো দৃশ্য?

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page