সময় বদলায়, প্রজন্ম পাল্টায়, কিন্তু কিছু তারকার জনপ্রিয়তা যেন সময়ের সীমানা মানতেই চায় না। মিঠুন চক্রবর্তী সেই বিরল নক্ষত্রদের একজন, যাঁর নাম শুনলেই আজও রাশিয়ার বহু মানুষের চোখে উচ্ছ্বাস ঝিলিক দেয়। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ছেলে নমোশি চক্রবর্তী এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা শোনান, যা শুনলে অবাক না হয়ে উপায় থাকে না। তিনি জানান, রাশিয়ার বহু নারী আজও মিঠুনকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং এই আবেগ একেবারেই আন্তরিক।
নমোশি মজার ছলে বলেন, তিনি নাকি তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তাঁর বাবা আর বিয়ে করতে পারবেন না, বরং তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কিন্তু তাতেও নাকি আগ্রহ দেখান না কেউই। এই ঘটনাই প্রমাণ করে মিঠুন চক্রবর্তীর প্রতি তাঁদের আবেগ কত গভীর। শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, ব্যক্তিগতভাবেও তাঁকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল এবং ভালোবাসা এখনও অটুট রয়েছে, যা খুব কম তারকার ভাগ্যেই জোটে।
রাশিয়ায় এই উন্মাদনার সূত্রপাত হয়েছিল উনিশশো বিরাশির ছবি ডিস্কো ড্যান্সার মুক্তির পর থেকেই। ছবির জিমি চরিত্রটি সাধারণ মানুষের সংগ্রাম, আত্মসম্মান আর স্বপ্নপূরণের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের কাছে এই গল্প ছিল নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি। তাই মিঠুন শুধু নায়ক নন, হয়ে উঠেছিলেন ঘরের মানুষ, এক আপনজন, যাঁর সাফল্যে তারা নিজেদের জয় খুঁজে পেয়েছিল।
মিঠুনের যাত্রাপথ অবশ্য শুরু হয়েছিল একেবারেই ভিন্ন ধারায়। কিংবদন্তি পরিচালক মৃণাল সেনের হাত ধরে মৃগয়া ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক। প্রথম ছবিতেই অসাধারণ অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে তিনি বুঝিয়ে দেন যে তিনি কেবল বাণিজ্যিক নায়ক নন, শক্তিশালী অভিনেতাও বটে। এই স্বীকৃতি তাঁর আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে দেয়।
আরও পড়ুনঃ “ও একেবারে পারফেকশনিস্ট” ৩১ বছরের দাম্পত্যে স্ত্রী স্বাগতা বসুকে নিয়ে অকপট স্বামী জয়! কলেজ জীবনে কবিতা আর ১১-১২ পাতার চিঠিতে কীভাবে শুরু হয়েছিল তাঁদের প্রেম? বর্তমানে কেমন চলছে সেই দীর্ঘ দাম্পত্যের গল্প?
পরবর্তীতে একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজেকে সর্বভারতীয় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। ডিস্কো ড্যান্সার ছাড়াও সাহস, ওয়ারদাত, বক্সার, পেয়ার ঝুকতা নাহি, অগ্নিপথ সহ অসংখ্য হিন্দি ও বাংলা ছবিতে তাঁর উপস্থিতি দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। নাচ, অভিনয় এবং ব্যক্তিত্বের মিশেলে তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনন্য আইকন, যাঁর জনপ্রিয়তা আজও দেশ পেরিয়ে হৃদয়ে বেঁচে আছে।
