বর্তমান বিনোদন দুনিয়ায় কাজের নিশ্চয়তা আর আগের মতো নেই—এই বাস্তবতা এখন আর কারও অজানা নয়। কখনও ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কখনও প্রজেক্ট পিছিয়ে যাচ্ছে, আবার কখনও মাসের পর মাস কাজের ফোনই আসছে না। তাই শুধুমাত্র অভিনয় বা শুটিংয়ের পারিশ্রমিকের ওপর ভরসা না রেখে বহু তারকা এখন বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন। কেউ রেস্তরাঁ খুলছেন, কেউ ক্লাউড কিচেন শুরু করছেন, আবার কেউ ছোটখাটো ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন।
সম্প্রতি এই ব্যাপারে মুখ খুলেছেন টলিউডের পরিচিত মুখ অভিনেতা প্রান্তিক ব্যানার্জি। ছোট পর্দার বিভিন্ন ধারাবাহিকে তাঁর সাবলীল অভিনয়, চরিত্রের গভীরতা আর স্বাভাবিক সংলাপ বলার ভঙ্গি দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে বহুদিন আগেই। ইতিবাচক হোক বা নেতিবাচক চরিত্র—প্রান্তিক বরাবরই নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। ফলে ইন্ডাস্ট্রি বা সমাজ নিয়ে তাঁর করা কোনও মন্তব্য সহজেই নজর এড়ায় না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কলকাতার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা শহরের বিরিয়ানি-প্রেমের কথা তুলে ধরেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কলকাতায় বিরিয়ানি এখন শুধুমাত্র একটি খাবার নয়, বরং আবেগ। সকাল থেকে রাত—প্রায় সব সময়ই বিভিন্ন নামী-বেনামী দোকানের সামনে ভিড় চোখে পড়ে। পুরনো ঐতিহ্যবাহী দোকান যেমন আছে, তেমনই নতুন নতুন স্টার্ট-আপ বা ক্লাউড কিচেনও দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এই প্রবণতাই নাকি তাঁকে ভাবিয়েছে।
আর ঠিক এখানেই আসে প্রান্তিক ব্যানার্জির মন্তব্য, যা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে চর্চা তুঙ্গে। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, কলকাতায় যদি সত্যিই ভালো রোজগার করতে হয়, তাহলে বিরিয়ানির দোকান খোলাই নাকি সবচেয়ে নিরাপদ রাস্তা। কথাটা নিছক রসিকতা হলেও, তার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে বাস্তব পরিস্থিতির ইঙ্গিত।
আরও পড়ুনঃ “স্বাবলম্বী হলেও, মায়ের কোলে আশ্রয় খুঁজি” মায়ের শাড়ির ভাঁজেই লুকিয়ে আছে শৈশব! ঝলমলে লেবেল ছাপিয়ে মায়ের শাড়িতে আত্মবিশ্বাসী আভেরী সিংহ রায়! বিয়েবাড়ির মরশুম ভাগ করলেন আবেগঘন স্মৃতি?
সব মিলিয়ে প্রান্তিকের এই মন্তব্য বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। কলকাতার মানুষের খাদ্যরুচি আর বাজারের চাহিদা বিচার করলে তাঁর কথাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়াও কঠিন। এখন দেখার বিষয়, এই কথার প্রভাব শুধু আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সত্যিই আগামী দিনে টলিউডের আরও পরিচিত মুখকে বিরিয়ানির ব্যবসায় নামতে দেখা যায়।
