সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য লোপামুদ্রা মিত্র শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি এক জীবন্ত জাদুকর। রবীন্দ্রসঙ্গীত, আধুনিক বাংলা গান এবং লোকগীতিতে তার অনন্য সুর, কণ্ঠ এবং নাট্যশৈলী আজও অনন্য। কিন্তু সম্প্রতি তিনি এক অকপট সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনাগুলো শেয়ার করে বললেন, আজকের সময়ের সংগীত জগৎ যেমন বদলে যাচ্ছে, তেমনি শিল্পীর জীবনের চ্যালেঞ্জও বাড়ছে।
তিনি জানিয়েছেন, “আমি যখন গান করতাম, সেই সময় অনেকগুলো কোম্পানি একসাথে নতুন গান তৈরি করত। এখন পুরনো গানকেই রিমিক্সে রূপান্তর করা হচ্ছে। শিল্পীর সংখ্যা কমে গেছে, আর শ্রোতাদের আগ্রহও খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে।” এই কথাগুলো থেকে স্পষ্ট যে, শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতেও বাংলা গানের জন্য সময় কঠিন হতে পারে। শিল্পী হিসেবে তার উদ্বেগ নতুন প্রজন্মের জন্যও গভীর।
সাক্ষাৎকারের লোপামুদ্রা মিত্র জানান, “আমার ধারণা কয়েক বছরের মধ্যে বাংলার আর কিছু থাকবে না। আমাদের গান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে পারছে না, আর তারা বাংলার বদলে আন্তর্জাতিক গানেই বেশি আকৃষ্ট। এই পরিস্থিতি যদি না বদলানো যায়, তবে বাংলা সংগীত ও ভাষার ঐতিহ্য বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।” এক কথায়, এটি শুধু একটি সাক্ষাৎকার নয়, এটি একজন শিল্পীর উদ্বেগ, আত্মসমালোচনা এবং বাংলা গানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা।
এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন যে, গানের প্রতি ভালোবাসা হারানো এবং প্রতিদিন শেখার অভ্যাস হারানো এই জগতের বড় সমস্যা। ডিজিটাল দুনিয়ায় রিলস বানানোর চাপ ও দ্রুত ফলাফল পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা শিল্পীর সৃষ্টিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে গান গাওয়ার ইচ্ছে অনেক সময় কমে যায়, এবং শিল্পী নিজেকে বাধ্যবাধকতার মধ্যে ফেলে দেখতে পান।
আরও পড়ুনঃ মেডিনেস্ট কেলে’ঙ্কারির শেষ অধ্যায়ে পৌঁছাতেই বিপদ! দময়ন্তীর রহস্যমৃ’ত্যু, খু’নের অভিযোগে গ্রেফতার আদি! ফাঁসানোর চক্রান্ত নাকি পরিকল্পিত খু’ন? এই কঠিন পরীক্ষার মুখে কী করবে আনন্দী?
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে লোপামুদ্রা বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি যে সংগীতকে ভালোবাসা সবসময় বেঁচে থাকবে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের গান পৌঁছে দেওয়া হলে হয়তো বাংলা গানের ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হবে।” এক কথায়, এটি শুধু একটি সাক্ষাৎকার নয়, এটি একজন শিল্পীর আত্মসমালোচনা, সময়ের সঙ্গে লড়াই এবং সংগীতকে ভালোবাসার গভীর স্বীকারোক্তি।
