দেবচন্দ্রিমা সিংহরায় মানেই প্রাণচঞ্চল এক ব্যক্তিত্ব, যার পায়ের তলায় যেন সত্যিই সর্ষে। সুযোগ পেলেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়েন নতুন গন্তব্যের খোঁজে। কিছুদিন আগেই প্রিয় বান্ধবী অদ্রিজার বাগ্দানে যোগ দিতে দক্ষিণ ভারত ঘুরে এসেছেন তিনি। চারপাশে বিয়ের আমেজ থাকলেও নিজের জীবনে এখনও সিঙ্গল তকমা নিয়েই স্বচ্ছন্দ অভিনেত্রী, আর সেই স্বচ্ছন্দ্যেই লুকিয়ে রয়েছে তাঁর আত্মবিশ্বাসী হাসি।
প্রেমের সপ্তাহ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দেবচন্দ্রিমার অকপট জবাব, এই সময়টা মূলত যুগলদের জন্য হলেও প্রতিটি দিনই তাঁর কাছে ভালবাসার দিন। বন্ধুর বিয়ে নিয়ে তাঁর মনে কোনও চাপ বা আফসোস নেই। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, বিয়ে শুধুমাত্র দুজন মানুষের সম্পর্ক নয়, এটি দুই পরিবারেরও বন্ধন। তাই তাড়াহুড়ো করে নয়, ভেবেচিন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই জীবনের বড় চাবিকাঠি বলে মনে করেন তিনি।
তবে সামাজিক বাস্তবতা থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন নন। বিয়েবাড়ির আসরে তাঁকেও শুনতে হয় সেই চিরচেনা প্রশ্ন, কবে বিয়ে করছেন। কিন্তু এই প্রশ্ন তাঁকে বিচলিত করে না। তাঁর মতে নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে বিয়ে করতেই হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে দেরিতে হলেও সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়াই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটাই হওয়া উচিত জীবনের লক্ষ্য।
নিজেকে ভালবাসা নিয়ে দেবচন্দ্রিমার ভাবনাও বেশ স্পষ্ট ও পরিণত। তাঁর কাছে সেলফ লাভ মানে নিজের সম্মানবোধকে গুরুত্ব দেওয়া। দীর্ঘদিন একা থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের পছন্দ অপছন্দ বুঝতে সাহায্য করেছে। তিনি এখন সহজেই নিজের ভুল স্বীকার করতে পারেন, আবার অযথা দোষ নিজের ঘাড়েও নেন না। এই ভারসাম্যই তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।
আরও পড়ুনঃ “এটা আমার কাছে সহজ প্রাপ্তি নয়, দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল…এবার প্রবীণদের জন্য মেডিক্লেম ফেরানোই অগ্রাধিকার!” আর্টিস্ট ফোরামের কোষাধ্যক্ষ পদে জিতে, শপথ গ্রহণ বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়ের!
ভবিষ্যতের সম্পর্ক নিয়েও অভিনেত্রীর ভাবনা পরিষ্কার। ভালবাসার পাশাপাশি সম্মানকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর স্বপ্নের সঙ্গী হবেন বিশ্বস্ত, সংবেদনশীল এবং তাঁর কাজের জায়গাকে বুঝতে সক্ষম। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব না হলে তা সম্মানের সঙ্গে শেষ করাই উচিত বলেও মনে করেন তিনি। প্রাক্তন সম্পর্ক নিয়েও কটূক্তি নয়, বরং স্মৃতির প্রতি সম্মান রাখাই তাঁর জীবনের দর্শন।
