জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“এক এক করে প্রধান চরিত্রদের সরানো হচ্ছে কেন?” সম্মানজনকভাবে শেষ করা হোক, এভাবে চালিয়ে যাওয়ার অর্থ কী?” ‘মীরা’ ওরফে তন্বী বাদ পড়তেই ফের বিতর্কে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’! টিআরপি পতনের মাঝেই ধারাবাহিক বন্ধের দাবি জোরালো!

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ (Chirodini Tumi Je Amar) নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। শুরুতে পুনর্জন্ম আর অসম বয়সের প্রেমের ভিন্নধর্মী গল্পে দর্শকের মন জিতেছিল এই মেগা। আর্য-অপর্ণা ও কিঙ্কর-মীরার সম্পর্ককে ঘিরেই গল্পের ভিত তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিতেই যেন ফাটল ধরতে শুরু করেছে। টিআরপি তালিকায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়া, স্লট হারানো মিলিয়ে ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিলই। তার উপর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সরে যাওয়ায় দর্শকদের ক্ষোভ এখন প্রকাশ্য।

দিতিপ্রিয়া রায় সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই নাকি বদলে যায় ছবিটা, এমনটাই মনে করছেন অনেক নিয়মিত দর্শক। নতুন মুখ আনা হয়েছে, গল্পে রোম্যান্সের মাত্রাও বাড়ানো হয়েছে, তবুও সেই আগের সংযোগ আর তৈরি হয়নি বলে মত নেটিজেনদের। এখন আবার মীরা চরিত্রে অভিনয় করা তন্বী লাহা রায়ের (Tonni Laha Roy) হঠাৎ বিদায় ঘিরে সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তাঁর পোস্টে স্পষ্ট, সিদ্ধান্তটা তাঁর নিজের ছিল না। আর সেটাই আরও বেশি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দর্শকদের মনে, কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া হল?

প্রসঙ্গত, ধারাবাহিকের গল্পে কিঙ্কর-মীরার সম্পর্ক ছিল অন্যতম আবেগঘন স্তম্ভ। সেখানে মীরার অসমাপ্ত ট্র্যাক থেমে যাওয়াকে অনেকেই গল্পের প্রতি অবিচার বলছেন। দর্শকদের একটা বড় অংশের দাবি, যে গল্প আর্য-অপর্ণা ও কিঙ্কর-মীরাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, সেখানে একপাক্ষিকভাবে চরিত্র বাদ দিলে কাহিনির ভারসাম্য নষ্ট হবেই। ইতিমধ্যেই নতুন খলনায়িকা রোহিনী এস রয় চরিত্রে নবনীতা মালাকারকে আনা হয়েছে, কিন্তু তাতেও ক্ষোভ কমেনি।

বরং অনেকেই মনে করছেন, সমস্যা ঢাকতে নতুন চরিত্র যোগ করা হচ্ছে। মাঝে শোনা গিয়েছিল নির্মাতা সংস্থা ও চ্যানেলের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, এমনকী ধারাবাহিক বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও সেসব নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কিছু হয়নি, তবু দর্শকদের আলোচনায় বারবার ফিরে আসছে এই আশঙ্কা। টিআরপি যখন এমনিতেই নিম্নমুখী, তখন বারবার কাস্ট বদল বা চরিত্র বাদ পড়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, এমনটাই মত অনেকের।

সব মিলিয়ে সমাজ মাধ্যমে এখন একটাই দাবি, এভাবে যদি গল্পের মূল চরিত্রদের সরানো হয়, তবে ধারাবাহিক চালিয়ে যাওয়ার অর্থ কী? কেউ কেউ সরাসরি দাবি তুলছেন, এইভাবে টেনে না নিয়ে গিয়ে বরং সম্মানজনকভাবে শেষ করে দেওয়া হোক ধারাবাহিকটি! দর্শকদের সঙ্গে আবেগের যে বন্ধন তৈরি হয়েছিল, সেটাকেই যেন গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ, একের পর এক অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দর্শকরা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছেন, গল্পের ভিত না বাঁচলে শুধুমাত্র নতুন মোড় দিয়ে পরিস্থিতি সামলানো যাবে না।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page