টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘শতাব্দী রায়’ (Satabdi Roy) দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা ছবির পাশাপাশি রাজনীতিতেও উল্লেখযোগ্য নাম। আজ তাঁকে সেভাবে পর্দায় দেখা না গেলেও, এটা অস্বীকার করা যায় না যে তাঁর ব্যক্তিত্ব, পরিমিত সৌন্দর্য এবং সহজাত অভিনয় দক্ষতা তাঁকে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে দিয়েছিল শুরুর দিন থেকে। নব্বইয়ের দশকে একের পর এক ছবিতে তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পর্দায় যেমন সাবলীল, বাস্তব জীবনেও তেমনই খোলামেলা এবং স্পষ্টভাষী তিনি।
এই স্বভাবের জন্যই হয়তো ব্যক্তিগত স্মৃতিও তিনি অকপটে ভাগ করে নিতে পারেন। সম্প্রতি তেমনই এক আলাপচারিতায় তিনি নিজের কিশোরীবেলার এক অদ্ভুত ভালো লাগার কথা তুলে ধরেন। তখন তাঁর বয়স সবে সতেরো-আঠারো। অভিনয়ের জগতে পা রাখলেও মনটা ছিল একেবারেই কাঁচা। সেই সময় বাংলা ছবির এক জনপ্রিয় গায়কের কণ্ঠে তিনি মুগ্ধ হয়ে পড়েন। গায়কটি নিজে কখনও বুঝতেই পারেননি যে এক তরুণী অভিনেত্রীর মনে তাঁর জন্য এতটা টান তৈরি হয়েছিল।
ভালো লাগাটা ছিল একেবারেই নীরব, একতরফা। একটি রেকর্ডিংয়ের ছোট্ট ঘটনা নাকি তাঁকে আরও বেশি আকৃষ্ট করেছিল। একটি গানে দু-লাইন ভুল হয়ে যাওয়ায় গায়ক ক্ষমা চেয়েছিলেন আর সেই মুহূর্তটুকুই তাঁর মনে গেঁথে যায়। সেই সামান্য ভুল স্বীকারের সরল ভঙ্গি তাঁর কাছে এতটাই অসম্ভব আন্তরিক লেগেছিল যে, পরে নাকি সেই অংশটুকু তিনি বারবার শুনতেন। যখন একটি পত্রিকায় সেই গায়কের ছবি সহ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়, তখন তাঁর ভালো লাগা যেন আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
মজার বিষয়, তখন তিনি মনে মনে ভবিষ্যতেরও কল্পনা করে ফেলেছিলেন। বয়সের পার্থক্য খুব বেশি নয় ভেবেই হয়তো একসময় তাঁর মনে বিয়ের কথাও এসেছিল। গায়কের মা যেহেতু অভিনেত্রী সঙ্গে প্রায়ই অভিনয় করতেন, তাই একদিন সাহস করে যোগাযোগের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। সেখানেই জানতে পারেন, বয়সের ব্যবধান তাঁর ধারণার চেয়ে অনেকটাই বেশি! সেই উপলব্ধিই ধীরে ধীরে তাঁকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনে।
আরও পড়ুনঃ সময় হার মানে প্রেমের কাছে! বারান্দা থেকে শুরু, আজ তিন দশকের পথচলায় আরও উজ্জ্বল সৌরভ-ডোনা! ২৯ বছরের বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের মুহূর্ত ভাগ করে, শোনালেন অজানা গল্প!
এরপর একদিন দূর থেকে সেই মানুষটিকে দেখেছিলেন তিনি, কিন্তু আর কোনওদিন সামনে গিয়ে কথা বলা হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিশোরী মনের আবেগও বদলে গেছে। আজও সেই গায়ক জানেন না, একসময় তাঁর কণ্ঠস্বর আর একটি ছোট্ট ভুলের মুহূর্ত কাউকে এতটা আলোড়িত করেছিল। স্মৃতিটা এখন আর প্রেম নয়, বরং এক টুকরো মিষ্টি গল্প যা মাঝে মাঝে মনে পড়লে হাসি এনে দেয়। আজ অভিনেত্রী নিজের স্বামী ও সংসার নিয়ে সুখী, তবে মনের কোণে একটা আক্ষেপ থেকেই গেছে।
