টেলিভিশনের পর্দায় সাফল্য মানে শুধু টিআরপি নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একসঙ্গে লড়ে যাওয়ার গল্পও। সারা বছর ধরে নিরন্তর পরিশ্রমের পর যখন কোনও স্বীকৃতি মেলে, তখন সেটি নিছক ট্রফি হাতে তোলার মুহূর্ত থাকে না, সেটা হয়ে ওঠে পথ চলার এক বড় প্রেরণা। এ বার জি বাংলার ‘সোনার সংসার’-এর মঞ্চে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর (Chirodini Tumi Je Amar) একঝাঁক শিল্পী ও কলাকুশলী নানান বিভাগে সম্মানিত হয়েছেন। দলগত সাফল্যের এই ছবি দর্শকদের কাছেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
কারণ, ধারাবাহিকটির চরিত্রগুলো ইতিমধ্যেই অনেকের ঘরের মানুষ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে আর্য-অপর্ণা (Arjo-Aparna) জুটির সম্মানপ্রাপ্তি। পর্দার আর্য সিংহ রায় হিসেবে জিতু (Jeetu Kamal) যেমন প্রিয় নায়ক, তেমনই গল্পের পরতে পরতে তিনি প্রিয় জামাই হিসেবেও দর্শকের মন জিতেছেন। একইসঙ্গে প্রিয় বাবা সতু, প্রিয় মা সুমি, প্রিয় জা মানসী কিংবা প্রিয় দেওর অর্ক, প্রতিটি চরিত্রই আলাদা ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ভিন্ন স্বাদের চরিত্রে কিঙ্করের সম্মানও নজর কেড়েছে।
এতগুলো বিভাগে ধারাবাহিকটির উপস্থিতি প্রমাণ করে, গল্পের ভেতরের সম্পর্কগুলো কতটা দৃঢ় ভাবে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। অ্যাওয়ার্ড শো নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে খুব বেশি আগ্রহী নন বলেই জানালেও, জিতু এই কথা মানেন যে স্বীকৃতি অনেক সময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। তাঁর মতে, পুরস্কার মানে শুধু প্রশংসা নয়, কখনও কখনও সেটা কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ইউনিটের যাঁরা যাঁরা সম্মান পেয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আলাদা করে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
সহকর্মীদের প্রাপ্তিকে নিজের প্রাপ্তির মতো করেই দেখেছেন। এই মনোভাবটাই সবার নজর কেড়েছে। এছাড়াও, চরিত্রগুলোকে অভিনব উপমায় বর্ণনা করতেও ভোলেননি জিতু। কিঙ্করকে তিনি শক্তিমান ও দুর্ধর্ষ উপস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন, আর অপর্ণার চরিত্রে দেখেছেন দৃঢ়তা ও ধারাবাহিক সাফল্যের প্রতীক। তাঁর কথায় স্পষ্ট, পর্দার প্রতিটি দৃশ্য যেন নতুন উদ্যমে জন্ম নেয়। আবার অর্ক ও মানসীর চরিত্রকে তিনি এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেন জনপ্রিয় এক কালজয়ী ছবির স্মরণীয় পার্শ্বচরিত্র না থাকলে যেমন গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যেত।
আরও পড়ুনঃ “সংসারকে সময় না দিলে চলবে না” ‘নিম ফুলের মধু’ থেকে ‘তুই আমার হিরো’, টানা কাজের পর বিরতি নেলেন রুবেল! পরের গন্তব্য কোন চ্যানেলের ধারাবাহিক? শ্বেতার সঙ্গেই কি কামব্যাকের পরিকল্পনা? কী জানালেন অভিনেতা?
তেমনই এই ধারাবাহিকেও তাঁদের উপস্থিতি গল্পকে অন্য মাত্রা দেয়। নিজের প্রসঙ্গে এসে অবশ্য খানিক সংযত জিতু। সাফল্যের মুহূর্তেও নিজেকে বড় করে দেখাতে চান না। বরং মনে করিয়ে দেন, এই যাত্রা অস্থায়ী। আজ যা আছে, কাল তা নাও থাকতে পারে। তাই উচ্ছ্বাসের মধ্যেও তাঁর ভঙ্গিতে ছিল এক ধরনের স্থিরতা। সহকর্মীদের ছবি শেয়ার করার ইচ্ছা থাকলেও অনুমতি ছাড়া তা করা ঠিক হবে না বলেও মনে করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত বিনয় আর দলগত গর্ব, দুটোর মিশ্রণেই তৈরি হয়েছে এই সাফল্যের আবহ।
