ছোটপর্দার দর্শকদের কাছে অভিনেত্রী ‘পায়েল দে’ (Payel De) মানেই দীর্ঘদিনের পরিচিত এক মুখ। নায়িকা হিসেবে তাঁকে দেখতেই বেশি অভ্যস্ত অনুরাগীরা, কিন্তু চরিত্রের গুরুত্ব তাঁর কাছে মুখ্য। প্রধান বা পার্শ্ব, সে ভেদরেখা টানতে তিনি রাজি নন। সাম্প্রতিক সময়ে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকে রাজনন্দিনীর ভূমিকায় তাঁর উপস্থিতি বেশ নজর কেড়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কাজেও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। নির্ঝর মিত্রের ‘ক্যুইন্স’ সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করছেন তিনি।
তবে, কাজের চেয়ে বেশি আলোচনা এখন তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে জল্পনা, সংসার নিয়ে কৌতূহল, সবকিছুই সামাজিক মাধ্যমে বারবার সামনে এসেছে। পায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি নিজের পরিবারকে আলোচনার কেন্দ্রে আনতে চান না। তাঁর মতে, পরিচিতি এসেছে কাজের সূত্রেই, তাই ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। স্বামী দ্বৈপায়ন দাস এবং তিনি, দু’জনেই আলাদা পেশাদার মানুষ।
তাই ব্যক্তিজীবন আর কর্মজীবনকে মিশিয়ে ফেললে সমস্যাই বাড়ে। এইসবের মাঝেই, আসন্ন এপ্রিলেই অভিনয়জীবনের কুড়ি বছর পূর্ণ হবে পায়েলের। এত দীর্ঘ পথচলায় নানান ধরনের চরিত্রে নিজেকে গড়েছেন তিনি। আগে আলোচনা হতো তাঁর অভিনয়, চরিত্র বাছাই বা পর্দার সাফল্য নিয়ে। এখন পরিস্থিতি বদলেছে, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই বেশি চর্চা। সেই পরিবর্তনকে খুব পরিণতভাবে দেখছেন তিনি। বরং এই সময়েই বুঝতে পেরেছেন, প্রকৃত বন্ধু কারা।
যাঁদের কাছের মানুষ বলে ভেবেছিলেন, তাঁদের মধ্যেই কেউ কেউ নাকি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন সবচেয়ে বেশি। করোনা পরবর্তী সময় এই উপলব্ধি যিনি করতে পেরেছেন। এছাড়াও তাঁর জীবনবোধে বড় পরিবর্তন এনেছে। কঠিন পরিস্থিতি তাঁকে আরও বাস্তববাদী করেছে, মানুষ চেনার ক্ষমতা বাড়িয়েছে। বাইরে থেকে নরম স্বভাবের মনে হলেও ভিতরে তিনি এখন অনেক দৃঢ়, এই কথা ঘনিষ্ঠ মহল জানে। ব্যক্তিগত আঘাত বা গসিপকে আর তেমন গুরুত্ব দেন না।
নিজের সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানো, পরিবারের শান্ত পরিবেশের জায়গাগুলোতেই তিনি মন দিতে চান। অতিথি শিল্পী হিসেবে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’এ তাঁর কাজ আপাতত শেষ। ভবিষ্যতে আবার ডাক আসবে কি না, তা সময়ই বলবে। আপাতত ‘ক্যুইন্স’-এর শুটিং নিয়েই ব্যস্ত তিনি। কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন আরও সচেতন পায়েল। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও তিনি নিজের গতিতে এগোতে চান, নতুন চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের সামনে অন্য এক দিক তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েই।
