জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“একটা জায়গা বাড়ি না হলে, থাকা যায় না…সমস্যা হয়তো আমারই ছিল!” অবশেষে প্রথম ডিভোর্সের কারণ নিয়ে মুখ খুললেন মানালি দে! অভিমন্যুর সঙ্গে বর্তমান সংসার নিয়ে কতটা সুখী তিনি?

ডিভোর্সের কারণ জানতে চাইলে সরাসরি গভীরে যেতে চাননি টলিউড অভিনেত্রী মানালি দে। বরং খুব সহজ ভাষায় নিজের অনুভূতির কথাই শেয়ার করেছেন তিনি। ছোটবেলা থেকে আদরে বড় হওয়া একমাত্র মেয়ে হিসেবে বিয়ে সম্পর্কে তাঁর কল্পনা ছিল রূপকথার মতো। কিন্তু সংসার মানেই যে শুধু আনন্দ নয়, থাকে বাস্তবতার কঠিন মুখোমুখি হওয়া, সেটাও বুঝেছেন সময়ের সঙ্গে। মানালির কথায়, সমস্যা হয়তো তাঁরই ছিল, কারণ তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও বাড়ির মেয়ে হয়ে থাকতে চেয়েছিলেন। অথচ সেই পরিবার তাঁকে বাড়ির বউ হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। এই মানসিক ফারাক থেকেই দূরত্ব তৈরি হয় বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

বর্তমান সংসার নিয়ে বলতে গিয়ে গলায় স্পষ্ট আত্মবিশ্বাস শোনা যায় মানালির। পরিচালক অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করার পর তিনি যেন খুঁজে পেয়েছেন নিজের মতো জায়গা। তাঁর দাবি, আজ তিনি নিজের বাড়িতে যেমন স্বচ্ছন্দ, তেমনই স্বামীর বাড়িতেও। শ্বশুর শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্কও নিজের বাবা মায়ের মতোই আন্তরিক। তিনি যেমন নিজের বাবা মায়ের জন্য করেন, তেমনই চেষ্টা করেন শ্বশুর শাশুড়ির প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে। মানালির মতে, একটি সম্পর্ক তখনই পূর্ণতা পায় যখন দুই পক্ষই একে অপরকে নিজের জায়গা দেয়। আর সেই জায়গাটা তিনি এখন পেয়েছেন বলেই নিজেকে সম্পূর্ণ মনে হয়।

সম্প্রতি স্বামীর জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেন মানালি। অভিমন্যুর সঙ্গে একটি ছবিও প্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে দেখা যায় সাদা প্রিন্টেড শার্টে অভিমন্যু, যেখানে ফুটে উঠেছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্যাক্সির ছবি। পাশে কালো পোশাকে মানালি। দুজনকেই মানিয়েছে অনবদ্য। পোস্টে তিনি লেখেন, শুভ জন্মদিন বর, তুমি ছিলে বলেই সবটা সুন্দর। বাকি কথা সামনাসামনি। সংক্ষিপ্ত অথচ ভালোবাসায় ভরা এই বার্তাই যেন তাঁদের সম্পর্কের উষ্ণতার প্রমাণ দেয়।

অভিমন্যুর আগে অবশ্য জীবনের আরেকটি অধ্যায় ছিল মানালির। ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর সঙ্গীতশিল্পী সপ্তক ভট্টাচার্যর সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু চার বছরের মাথায় ২০১৬ সালে আইনি বিচ্ছেদ হয় তাঁদের। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটালেও শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক টেকেনি। এরপর প্রায় চার বছর পর ২০২০ সালে অভিমন্যুকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করেন মানালি। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো শিখেছেন নিজের চাওয়া পাওয়ার গুরুত্ব বুঝতে।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা মুখ খোলেন না মানালি। তবে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রাক্তনের সঙ্গে কোনও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নেই তাঁর। খারাপ সম্পর্ক হয়েছিল বলেই একসঙ্গে থাকা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখার মানুষ নন মানালি। যা ছেড়ে এসেছেন, তার দিকে আর ফিরে তাকাতে চান না। তাঁর বিশ্বাস, একটা জায়গা যদি কখনও বাড়ি বলে মনে না হয়, তবে সেখানে থাকা যায় না। সংসার মানে শুধু থাকা নয়, নিজের বলে অনুভব করা। আর সেই অনুভূতিটাই আজ তিনি খুঁজে পেয়েছেন বর্তমান জীবনে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page