দিনদুয়েক আগেই ছিল অনিন্দিতার জন্মদিন। খুব কাছের মানুষদের নিয়ে ছোট্ট কিন্তু উষ্ণ এক আয়োজনে কাটিয়েছেন বিশেষ দিনটি। জীবনের এই পথচলায় যাঁরা পাশে থেকেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি তিনি। বিশেষ করে স্বামী সুদীপকে উদ্দেশ করে তাঁর আবেগঘন বার্তা নজর কাড়ে সকলের। অনিন্দিতা লিখেছেন, তাঁর সমস্ত অপরাধের সঙ্গী, জীবনের সেরা বন্ধু সুদীপ। ভালোবাসা, স্নেহ আর উষ্ণতায় ভরা সংসার গড়ে তোলার জন্য স্বামীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। আরও লিখেছেন, অনেক কিছু শিখেছেন সুদীপের কাছ থেকে, আর যা এখনও শেখা হয়নি, তা-ও শিখে নেবেন। তাঁর কথায়, সুদীপ তাঁর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
মেয়ের জন্মের সময়ের এক মধুর মুহূর্তও ভাগ করে নিয়েছেন অনিন্দিতা। হাসপাতালের সেই প্রথম দিনের স্মৃতি যেন এখনও তাজা। তিনি জানিয়েছেন, যেভাবে দুজনে পরিকল্পনা করেছিলেন, ঠিক তেমনই একসঙ্গে একটি বছর পার করলেন তাঁরা। আলাপ পরিচয় এখনও চলছে, প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা আর বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে। তাঁদের এই পথচলায় গর্বিত বাবা, আনন্দে ভরপুর পরিবার। অনিন্দিতা অকপটে স্বীকার করেছেন, যাঁরা সবসময় ভালোবেসেছেন তাঁদের জন্য তাঁর সাফল্য উৎসর্গিত। পাশাপাশি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ডা. পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী ও ডা. অনন্যা বসুর প্রতি, যাঁদের সহযোগিতা না থাকলে এই যাত্রা এত সুন্দর হতো না।
জন্মদিনের সকালেও ছিল এক অন্যরকম অনুভূতি। ছোট্ট তিষ্যাকে দেখা গেল খবরের কাগজ হাতে বসে থাকতে। সেই ছবি ভাগ করে অনিন্দিতা লিখেছেন, জন্মদিনের সকালে প্রথমেই চোখে পড়েছে যুদ্ধের খবর। তাই তাঁর একটাই প্রার্থনা, পৃথিবী যেন শান্ত হয়। সন্তানরা যেন নির্ভয়ে খেলাধুলো করে বড় হতে পারে। ছোট্ট মেয়েকে আদরে ডেকে শুভ জন্মদিন জানিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত আনন্দের মধ্যেও সমাজ ও বিশ্বের প্রতি এই সংবেদনশীলতা অনিন্দিতার ভাবনাকে আরও গভীর করে তোলে।
দেখতে দেখতে কেটে গেল একটি বছর। একরত্তি তিষ্যার প্রথম জন্মদিন তাই মা বাবা দুজনের কাছেই ভীষণ আবেগের। কন্যা জন্মের পর থেকে প্রতিটি ছোট বড় মুহূর্তই ভাগ করে নিয়েছেন অনিন্দিতা ও সুদীপ। প্রথম হাঁটা, প্রথম হাসি, প্রথম শব্দ উচ্চারণ সবকিছুই যেন স্মৃতির অ্যালবামে যত্ন করে রাখা। এই একটি বছর তাঁদের সম্পর্ককেও আরও দৃঢ় করেছে। সংসারের ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানের হাসিই হয়ে উঠেছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আরও পড়ুনঃ পাহাড়ের কোলে বসন্ত রঙে নিজেদের রাঙালেন দেব-রুক্মিণী! রঙের উৎসবের আড়ালে নতুন চমক!
তবে প্রথম জন্মদিনের সকালেই বড় চমক দিল তিষ্যা। এমন এক কাজ করল সে, যা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন মা বাবা। ছোট্ট হাতের সেই আচরণে লুকিয়ে ছিল অগাধ স্নেহ আর নির্ভেজাল ভালোবাসা। পরিবারের সকলেই মুগ্ধ সেই মুহূর্তে। প্রথম জন্মদিন যেন শুধু একটি দিন নয়, বরং এক বছরের স্নেহ, যত্ন আর স্বপ্নের উদযাপন। অনিন্দিতার এই আবেগঘন পোস্ট ইতিমধ্যেই ছুঁয়ে গেছে অনুরাগীদের হৃদয়।
