বড়সড় বিপদের মুখ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন কবি ও গীতিকার শ্রীজাত। সম্প্রতি মেদিনীপুরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে কলকাতায় ফেরার পথে সাঁতরাগাছি এলাকায় তাঁর গাড়ি একটি ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই এই খবর ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বইপাড়া এবং টলিপাড়ায়। স্বাভাবিকভাবেই অনুরাগী, সহকর্মী এবং সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই আলোড়ন তোলে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। এই ঘটনার পর নানা গুঞ্জনও ছড়াতে শুরু করে। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজেই সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের বর্তমান অবস্থার কথা জানালেন শ্রীজাত।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে কবি জানিয়েছেন যে তিনি এখন বিপন্মুক্ত এবং বাড়িতেই বিশ্রামে রয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় তাঁর গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি বড় ধরনের বিপদ থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন। শরীরের কয়েকটি পেশিতে আঘাত লেগেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং আপাতত কয়েকদিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। ঘটনার ভয়াবহতা সত্ত্বেও তিনি যে দ্রুত সুস্থতার পথে এগোচ্ছেন, সেটাই ভক্তদের জন্য স্বস্তির খবর। তাঁর এই পোস্ট সামনে আসার পর অনেকটাই নিশ্চিন্ত হয়েছেন অনুরাগীরা, কারণ দুর্ঘটনার খবর প্রথম ছড়িয়ে পড়ার পর নানা রকম উদ্বেগ এবং গুজব তৈরি হয়েছিল।
পোস্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন শ্রীজাত। দুর্ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী দূর্বা গাড়িতে ছিলেন না। খবর প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো স্বামীর সঙ্গে ছিলেন এবং সেই নিয়েই নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই ধোঁয়াশা কাটাতেই কবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে দুর্ঘটনার সময় তিনি একাই গাড়িতে ছিলেন। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীরা কিছুটা স্বস্তি পান। কারণ পরিবারকে ঘিরে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। শ্রীজাতের কথায় বোঝা যায় যে দুর্ঘটনাটি সত্যিই ভয়াবহ ছিল, তবে ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই কঠিন সময়ে অসংখ্য মানুষ যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কবি। দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর অনুরাগী, বন্ধু এবং সহকর্মীরা একের পর এক ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তাঁর খোঁজ নিয়েছেন। তাঁদের এই উদ্বেগ ও ভালোবাসাই কঠিন সময় মানসিক শক্তি জুগিয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীজাত। বিশেষভাবে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ব্যস্ততার মধ্যেও বারবার তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। এই মানবিক আচরণ তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলেও উল্লেখ করেন কবি।
আরও পড়ুনঃ “বান্ধবী থাকতেই পারে…এত ঘনিষ্ঠতা ভালো না, সাবধানে থাকুন!” হোলিতেও একসাথে ছবি নেই স্বামী-স্ত্রীর, উল্টে তন্বীর সঙ্গে ছবি পোস্টে আদৃতের! প্রিয় জুটির সমীকরণে ভাঙন? বাংলাদেশের আলভী-ইকরার ঘটনা থেকে, কৌশাম্বীকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ ভক্তদের!
তবে চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনে আপাতত কয়েকদিন বাড়িতেই বিশ্রামে থাকতে হবে তাঁকে। ফলে আগে থেকে নির্ধারিত একাধিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলেও জানিয়েছেন শ্রীজাত। আয়োজকদের কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে সুস্থ হয়ে উঠলেই আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। সবশেষে অনুরাগীদের উদ্দেশে তিনি আশ্বস্ত করে লিখেছেন, দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই, তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর এই বার্তা ভক্তদের অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে এবং সবাই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
