জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

একসময় হিরোদের পাশে নিয়মিত দেখা যেত, তারপর হঠাৎ করেই চলে গিয়েছিলেন আড়ালে! দীর্ঘ বিরতির পর ফের আলোচনায়, ‘ব্ল্যাক কফি’র হাত ধরে নতুন অধ্যায় শুরু রাজু মজুমদারের!

অভিনেতা রাজু মজুমদার পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ‘ফণিবাবু ভাইরাল’ ছবির মাধ্যমে। প্রথম কাজেই দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হন তিনি। এবার তিনি ফিরছেন তাঁর দ্বিতীয় ফিচার ফিল্ম ‘ব্ল্যাক কফি’ নিয়ে। এই ছবিটি একটি ক্রাইম থ্রিলার, যা তৈরি হয়েছে ভিন্ন ধরনের ভাবনা নিয়ে। প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন আদিত্য অশোক এবং আদিকা প্রোডাকশনস। শুরু থেকেই এই ছবিকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে নতুন কাস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত এই ছবিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। নির্মাতাদের আশা, এই ছবির মাধ্যমেই নতুন প্রতিভারা নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন। ফলে শুরু থেকেই ‘ব্ল্যাক কফি’ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে দর্শকদের মধ্যে।

এই ছবির অন্যতম বড় চমক হল একেবারে নতুন মুখ্য অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের নির্বাচন। সাধারণত পরিচিত মুখদের নিয়েই ছবি তৈরি হয়, কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ নতুনদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্মাতারা মনে করছেন, এতে গল্প আরও বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। নতুনদের অভিনয় দর্শকদের কাছে সতেজ অভিজ্ঞতা দেবে বলেই তাদের বিশ্বাস। ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রতিভা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ইতিমধ্যেই অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ফলে ছবিটি মুক্তির আগেই আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। নতুনদের ওপর ভরসা করে এমন সাহসী পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায় না বলেই এই ছবির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

গল্পের পটভূমি কলকাতার উপকণ্ঠে তৈরি এক পরিবর্তনশীল সমাজ। সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এক উপনগরীর জীবন, সম্পর্ক এবং রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে কাহিনি। ক্ষমতা দখল, প্রতিশোধ আর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় রক্তাক্ত সংঘর্ষ। এই আবহে উঠে আসে প্রলয় ঘোষ নামে এক সাধারণ পরিবারের ছেলে। ধীরে ধীরে সে হয়ে ওঠে প্রভাবশালী জমি মাফিয়া। তার ছেলে রন বাবার সঙ্গে কাজ করে এবং সেই সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে ওঠে। ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শত্রুও বাড়তে থাকে। বারবার আক্রমণের মুখে পড়লেও তারা নিজেদের বুদ্ধি ও শক্তি দিয়ে বেঁচে যায়। সময়ের সঙ্গে তারা আরও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

এই সময়েই রনের জীবনে আসে প্রিয়া, যা গল্পে বড় পরিবর্তন আনে। প্রিয়ার প্রেমে পড়ে রন নিজের পুরনো জীবন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা পাহাড়ে গিয়ে বিয়ে করে এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করে। দু’জনে মিলে একটি ছোট কফি শপ খোলে, যার নাম দেয় ‘ব্ল্যাক কফি’। শান্ত ও সাধারণ জীবনই তখন তাদের লক্ষ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই স্বাভাবিক জীবনে বেশিদিন স্থিরতা থাকে না। হঠাৎই শত্রুপক্ষ প্রলয়কে খুন করে, যা সবকিছু বদলে দেয়। বাবার মৃত্যুর পর রনের মধ্যে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে। সে আবার অন্ধকার জগতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

এরপর গল্প এগোয় প্রতিশোধ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সিদ্ধান্তের পরিণতি ঘিরে। রন একে একে শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। এই পথে চলতে গিয়ে প্রিয়ার সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। প্রশ্ন ওঠে, সে কি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে? তাদের সম্পর্ক কি আগের মতো হবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরই তুলে ধরা হবে ছবিতে। পরিচালক জানিয়েছেন, এটি শুধু অপরাধের গল্প নয়, বরং বাস্তব জীবনের কঠিন দিকগুলোকেও সামনে আনার চেষ্টা। ‘ব্ল্যাক কফি’ তাঁর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যেখানে তিনি আরও গভীর এবং বাস্তবধর্মী গল্প বলতে চেয়েছেন। সব মিলিয়ে ছবিটি দর্শকদের জন্য একটি তীব্র এবং চিন্তাভাবনা জাগানো অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page