ফ্যাশন নিয়ে সবসময়ই নতুন কিছু করতে ভালোবাসেন অভিনেত্রী মনামী ঘোষ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর অভিনব পোশাক বারবার নজর কাড়ে। কখনও দড়ি দিয়ে তৈরি গাউন, কখনও প্লাস্টিকের ফ্রক, আবার কখনও সম্পূর্ণ আলাদা ভাবনার শাড়ি পরে চমকে দেন তিনি। সম্প্রতি এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি হাজির হন একেবারে ভিন্ন ধরনের পোশাকে। হলুদ রঙের অফ শোল্ডার পেপলাম স্টাইলের এই পোশাকটি তৈরি হয়েছে অসংখ্য মেজারমেন্ট টেপ বা ফিতে দিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই লুক ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও আলোচনা।
এই পোশাকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল নিচের অংশ, যেখানে ঝালরের মতো ঝুলছিল বহু ফিতে। সঙ্গে ছিল একটি বাক্সের মতো দেখতে ব্যাগ, যা পুরো সাজকে আরও আলাদা করে তুলেছে। মনামীর কথায়, এই পোশাক শুধুই স্টাইলের জন্য নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে একটি ভাবনা। দর্জিদের কঠোর পরিশ্রমকে সম্মান জানাতেই তিনি এই ধরনের পোশাক বেছে নিয়েছেন। তাঁর মতে, ফ্যাশন শুধু দেখানোর বিষয় নয়, এর মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
এর আগেও একাধিকবার নিজের পোশাকের মাধ্যমে সামাজিক বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী। যেমন প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি পোশাক পরে পরিবেশ দূষণ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করেছিলেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, প্লাস্টিক ফেলে না দিয়ে অন্যভাবে ব্যবহার করা গেলে পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব। এমনকি একটি কাচের ব্যাগে মাছ নিয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি জলজ প্রাণীর সুরক্ষা নিয়েও বার্তা দেন। এই সবকিছুতেই তাঁর চিন্তাভাবনার ভিন্নতা স্পষ্ট।
শুধু আধুনিক পোশাক নয়, বাংলার ঐতিহ্যকেও নিজের ফ্যাশনে জায়গা দিয়েছেন মনামী। নকশিকাঁথার গাউন পরে তিনি তুলে ধরেছেন গ্রামীণ শিল্পীদের কাজ। শান্তিনিকেতনের শিল্পীদের হাতে তৈরি সেই পোশাক তৈরি করতে লেগেছিল প্রায় এক সপ্তাহ সময়। আবার একটি অনুষ্ঠানে শাড়ির আঁচলে ফুটিয়ে তুলেছিলেন মৃণাল সেনের ছবি এবং তাঁর সিনেমার ভাবনা। এইভাবে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, ফ্যাশনের সঙ্গে সংস্কৃতিরও মেলবন্ধন সম্ভব।
আরও পড়ুনঃ অরিজিতের পর এবার শ্রেয়া! প্লেব্যাকের জগতে ক্লান্ত, গান থেকে বিরতি নিয়ে নতুন পথে হাঁটবেন গায়িকা? মিলল কোন ইঙ্গিত?
তবে তাঁর এই সব অভিনব পোশাক নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। অনেকেই তাঁকে ‘উরফি জাভেদ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এই বিষয়ে মনামীর প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের মন্তব্য নতুন নয় এবং তিনি এসব নিয়ে মাথা ঘামান না। নিজের কাজ এবং ভাবনার উপর ভরসা রেখেই তিনি এগিয়ে চলেছেন। তাঁর মতে, ফ্যাশনের মাধ্যমে কিছু অর্থবহ বার্তা পৌঁছে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
