২০০৪ সালে পাকিস্তানের করাচিতে অনুষ্ঠিত এক কনসার্ট ঘিরে গায়ক সোনু নিগমের জীবনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি সেই ঘটনার একটি পুরনো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি ফের নজরে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে গান গাইছেন তিনি এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে চারদিক। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি পাল্টে যায় এক বিস্ফোরণের ঘটনায়। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ ছুটতে শুরু করেন প্রাণ বাঁচাতে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হন বলে জানা যায়। পুরো পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে বিশৃঙ্খলায় ভরে ওঠে।
এই ঘটনাকে সোনু নিগম নিজেই পরে খুব ভয়ঙ্কর বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, সেই সময় পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে কিছু বোঝার আগেই সবকিছু বদলে যায়। তবুও তিনি জানান, তিনি নিরাপদেই ছিলেন এবং আতঙ্কের মধ্যেও অনুষ্ঠান থামাননি। তিনি মঞ্চে থেকে গান চালিয়ে যান, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর বলে মনে হয়। এই সময় আয়োজক এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাদের সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে বড় বিপদ থেকে তিনি রক্ষা পান।
গায়ক আরও জানান, সেই দিন এক স্থানীয় পাকিস্তানি ব্যক্তি তাঁর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন। নিজের ঝুঁকি নিয়ে সেই ব্যক্তি তাঁকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেন। এই মানবিক ঘটনার কথা তিনি বারবার কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ওই মানুষটি না থাকলে হয়তো আজ তিনি বেঁচে থাকতেন না। এই ঘটনা তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছে বলে জানান তিনি। সন্ত্রাসের মাঝেও মানবিকতার এই উদাহরণ তাঁকে নাড়া দেয়। তিনি এটিকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন।
২০০৪ সালের এই কনসার্টটি হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির পথে ছিল। কার্গিল যুদ্ধ এবং সীমান্ত উত্তেজনার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ শুরু হচ্ছিল। সেই সময় সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছিল। শিল্পীদের যাতায়াত এবং কনসার্ট আয়োজন তারই একটি অংশ ছিল। এই প্রেক্ষাপটে সোনু নিগমের করাচি সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছিল। দুই দেশের দর্শকরাও সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে উৎসাহ দেখিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এটি ছিল এক ইতিবাচক সময়ের প্রতিফলন।
আরও পড়ুনঃ “ঘটনাটা শুনে হাত-পা কাঁপছিল…এক সপ্তাহ আগে বলেছিল জরুরি কথা আছে, শোনা হলো না আর!” ‘দেশের মাটি’র সেই ‘রাজা-মাম্পি’ জুটি আজও দর্শকদের স্মৃতিতে অম্লান! ‘রাজা’ ওরফে রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের অকাল মৃ’ত্যুতে শোকাহত, ‘মাম্পি’ রুকমা রায়!
সেই সময় সোনু নিগম তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম শীর্ষ পর্যায়ে ছিলেন। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলি ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশেই সমানভাবে জনপ্রিয় ছিল। বিশেষ করে তাঁর গান তুমসে মিলকে দিল কা হ্যায় জো হাল ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এই ধরনের গান দুই দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আবেগের সেতু তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্তেই ঘটে যায় এই ভয়াবহ ঘটনা। আজ এত বছর পর সেই ভিডিও আবার সামনে আসায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সন্ত্রাস আর মানবিকতার এই দ্বৈত ছবি আবারও ভাবাচ্ছে মানুষকে।
