টলিউডে বর্তমানে তীব্র বিতর্ক চলছে প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তার প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর বিরুদ্ধে। শোনা যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যার ফলে বন্ধ হয়ে গেছে দুটি জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘চিরসখা’ এবং ‘ভোলে বাবা পার করেগা’। এর ফলে অনেক শিল্পী, কলাকুশলী এবং টেকনিশিয়ান কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে টলিউডের অভিনেতা ভিভান ঘোষ তার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি জানান, তিনি বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। তার এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং শোরগোল শুরু হয়।
ভিভানের এই পোস্টের পর আর্টিস্টস ফোরাম তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফোরামের পক্ষ থেকে ভিভানকে ডেকে পাঠানো হয় এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে ভিভান তার পোস্টটি মুছে ফেলেন, তবে তিনি বলেন, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল টেকনিশিয়ানদের সাহায্য করা, যারা এখন কাজ হারিয়ে অস্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। তিনি আরও জানান, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাকে আশ্বস্ত করেছেন, যে টেকনিশিয়ানদের জন্য কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে একটি মর্মান্তিক ঘটনা। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ সিরিয়ালের শুটিংয়ের সময় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় একটি দুর্ঘটনায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো টলিউডে। রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এই ঘটনার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন, আর তারপরই শুরু হয় প্রতিবাদ। শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের সংগঠন যৌথভাবে কর্মবিরতির ডাক দেয়, যার ফলে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজিত সিরিয়ালগুলোর শুটিং বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, এই বিতর্কে যুক্ত দুটি সিরিয়াল ‘চিরসখা’ এবং ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরও অনেক শিল্পী, টেকনিশিয়ান এবং কলাকুশলী কাজ হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করা এই শিল্পীরা এখন অসহায় অবস্থায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যে, ‘কনে দেখা আলো’ সিরিয়ালের ভবিষ্যত নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ অগ্নিদেবের হৃদরো’গের চিকিৎসার মাঝেই নতুন করে বিপদে সুদীপা! স্বামীকে আনতে গিয়ে হাসপাতালেই লুটিয়ে পড়লেন অভিনেত্রী! খুব অসুস্থ, কী হয়েছে তাঁর?
শেষ পর্যন্ত, শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের কর্মসংস্থানের জন্য কিছুদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে আর্টিস্টস ফোরাম এবং অন্যান্য সংগঠন এখনো এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চাচ্ছে। সকলেই আশা করছেন, দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা আবার তাদের কাজ শুরু করতে পারেন এবং নিজেদের জীবিকা পুনরুদ্ধার করতে পারেন।
