বৈশাখ মাস আসতেই পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রা চড়ে উঠেছে। রোদের তেজে হাঁসফাঁস অবস্থা, বিশেষ করে যারা সারাদিন বাইরে কাজ করেন তাদের জন্য গরমটা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সময় আউটডোর শ্যুটিংয়ের কাজও বাড়িয়ে তোলে অনেক চাপ। অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্ত, যিনি তার দুই সন্তানকে সামলানোর পাশাপাশি নিজের কাজেও ব্যস্ত থাকেন, গরমে শ্যুটিংয়ের সময় কীভাবে নিজেকে সতেজ রাখতে পারেন তা নিয়ে সম্প্রতি শেয়ার করেছেন নিজের অভিজ্ঞতা। গরমকাল মানেই তার জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ, কারণ তার মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, আর এর সঙ্গে গরমের তাপমাত্রা মিলে গিয়ে তাকে বিশেষ কষ্ট দেয়।
অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্ত নিজে বলেন, “গরমকাল আমার কাছে একেবারেই সহ্যশক্তির বাইরে। বরফ পড়ুক, ঠান্ডা থাকুক, আমি সেটা সহ্য করতে পারি, কিন্তু গরম একেবারেই ভালো লাগে না। মাইগ্রেনের সমস্যা তো আছেই, তাছাড়া রোদের তেজ শরীরকে আরও অস্বস্তি দেয়।” তার মতে, গরমে ভালো থাকতে হলে সঠিক প্রস্তুতি নেয়া খুবই জরুরি। মানসী এমন কিছু সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ শেয়ার করেছেন যা তিনি নিজের অভিজ্ঞতায় পেয়েছেন। তিনি বলেন, “সানস্ক্রিনের ব্যবহার কখনই ভুলে যাই না। গরম হোক বা শীত, সানস্ক্রিন সব সময় ব্যবহার করি।”
গরমে শরীর সতেজ রাখতে শুধু ত্বকের যত্ন নেয়াই নয়, বরং প্রচুর জল পান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসী প্রতিদিন ডাবের জল খেতে ভুলেন না এবং বলেন, “গরমে শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে জল খাওয়া খুব জরুরি।” এছাড়া, বাইরের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, গরমের সময় বাড়ির তৈরি হালকা খাবারই তার পছন্দ। এই ধরনের খাবার শরীরকে সজীব রাখে এবং তাতে পুষ্টিও বেশি থাকে।
এছাড়া, মানসী আরো বলেন, “আমরা অভিনেতাদের কাজের সময়সূচি খুবই কঠিন। শীতকালে রাতের শ্যুটিং আর গরমকালে সকালবেলা আউটডোর শ্যুটিং থাকবেই। আমাদের কোনো বিকল্প নেই। তবে, যেভাবেই কাজ করি, নিজেকে সুস্থ রাখতে সঠিক যত্ন তো নিতে হবেই।” তার কথায়, “এমন কিছু ছোটো ছোটো অভ্যাস, যেমন ভালো খাবার খাওয়া, পানি খাওয়া, সানস্ক্রিন ব্যবহার, এগুলোই গরমকালে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।”
আরও পড়ুনঃ দেবাদৃতার জন্য বাড়ি বয়ে এলো বিবাহিত পরমব্রতর সম্বন্ধ! কুষ্টির অভিশাপ জেনেও কী এগোবে এই সম্পর্ক?
বিগত মার্চ মাসে, মানসী তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং মিউচুয়াল ডিভোর্সের পথে হাঁটছেন। তবে, তারা একে অপরের প্রতি সম্মান রেখে দুই সন্তানের অভিভাবক হিসেবে একসঙ্গে কাজ করবেন। সেই সঙ্গে, মানসী নিজে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তা তার দৃঢ় মানসিকতার পরিচায়ক।
