টেলিভিশন অভিনেত্রী নবনীতা দাসের জীবন বর্তমানে অনেকটাই পরিবর্তিত। প্রায় দু’বছর আগে তাঁর জীবন নাটকীয়ভাবে বদলে যায়, অভিনেতা জিতু কমলের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পরে। এরপর থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং কেরিয়ার নিয়ে নানান ধরনের গুঞ্জন শোনা গেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি একটি দামি মার্সিডিজ বেনজ কিনে আলোচনায় এসেছেন নবনীতা। প্রায় ৮০ লাখ টাকা মূল্যের এই গাড়ি কেনার পর সোশ্যাল মিডিয়াতে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক নিন্দামূলক মন্তব্য আসতে শুরু করেছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে কাজ নেই, সেখানে এত বড় অঙ্কের গাড়ি কেনার যুক্তি কী? নবনীতার গাড়ি কেনার বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের বিভিন্ন মন্তব্যে একরকমের সমালোচনা ঝড় উঠেছে। কেউ বলছেন, “কাজ নেই, কিন্তু বিলাসিতা আসছে কোথা থেকে?” আবার কেউ অভিযোগ করেছেন, হয়তো তিনি জিতুর থেকে প্রাপ্ত খোরপোষের টাকায় এমন বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। কিছু মানুষ তো আরও বেশি ব্যক্তিগত আক্রমণ করে মন্তব্য করেছেন যৌ*ণ জীবন নিয়ে! যা নবনীতাকে খুব একটা প্রভাবিত করেনি।
তিনি এসব মন্তব্যের কোনও জবাব দিতে আগ্রহী নন, বরং নিজে স্বাবলম্বীভাবে জীবনযাপন করার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। অভিনেত্রী জানান, তিনি তাঁর শর্তেই জীবন কাটাচ্ছেন, অন্যদের মন্তব্যের কাছে মাথা নত করেন না। প্রসঙ্গত, বিচ্ছেদের পর নবনীতার কেরিয়ারেও এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। টেলিভিশনের পর্দায় তাঁকে আর নিয়মিত দেখা যায় না। ২০১৯ সালে স্টার জলসার “তুমি আশেপাশে থাকলে” সিরিয়ালে শেষবার অভিনয় করেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই নবনীতার কাজের খোঁজ পাওয়া যায়নি। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, অভিনয়ের জগতে তাঁর আর তেমন কোনও কাজ নেই।
তবে এমন গুঞ্জনকে নস্যাৎ করে নিজেই জানিয়েছেন, তিনি শুধু টাকার জন্য কিংবা স্রেফ জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য কোন চরিত্রে কাজ করতে চান না। নিজে ভাল চরিত্র এবং মানসম্পন্ন কাজের জন্য অপেক্ষা করছেন। উল্লেখ্য, ছোটপর্দায় না দেখা গেলেও, নবনীতার জীবনে অন্যান্য ক্ষেত্রেও বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। অভিনেত্রী এখন একজন সফল সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, এবং তার প্রোফাইলের অনুসারীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি তিনি ব্যবসায়িক দুনিয়াতেও পদার্পণ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ “গাছের নিচে পড়ে ছিল ছবিটা…” প্রয়াত অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির প্রতি অসম্মান? জিতু কমলকে পর্দার ‘রাজনন্দিনী’, পায়েল দে’র তোপ! পাল্টা কী প্রতিক্রিয়া দিলেন পর্দার ‘আর্য’?
তার ব্যবসায়ী বন্ধুদের সঙ্গে তিনি বেঙ্গালুরুতে একটি নতুন উদ্যোগ শুরু করেছেন। এই ব্যবসার জন্য এখন নিয়মিত বেঙ্গালুরু যাতায়াত করছেন তিনি। ফলে অভিনয় তার কাছে এখন প্রধান প্রাধান্য নয়। তিনি জানেন, জীবনকে নতুন ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সৃজনশীলতার দিক থেকেও নতুন কিছু করতে হবে। বর্তমানে নবনীতা যেভাবে নিজেকে নতুন পথ অনুসরণ করতে শিখেছেন, তাতে তাঁর ভক্তদের জন্যও একটি বড় বার্তা আছে। চাইলেই জীবনকে অন্য দিকে নতুনভাবে চালনা করা সম্ভব। তাঁর জীবনের এই নতুন অধ্যায় তাকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য এনে দিতে পারে।
